টেকনাফের ইয়াবা ভুট্টোর বিলাসবহুল বাড়ি ফিরে পাওয়ার আবেদন খারিজ

নিউজ ডেস্ক::
দুটি বিলাসবহুল বাড়ি ও প্রায় ছয় কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করতে কক্সবাজার জেলা জজ আদালতের দেয়া নির্দেশ বাতিল চেয়ে ইয়াবা কারবারি নুরুল হক ভুট্টোর আবেদন সরাসরি খারিজ করেছেন হাইকোর্ট।

আজ বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। আর নুরুল হক ভুট্টোর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী প্রবীর রঞ্জন হালদার। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

আজকের এ আদেশের ফলে ভুট্টোর বাড়ি ও সম্পদ জব্দই থাকবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

আজ আদালতে বিশেষজ্ঞ মতামত দিয়েছেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রব। এক মতামতে বলা হয়েছে সিআইডি এই (মানিলন্ডারিং) মামলার তদন্ত করতে পারবে।

এর আগে কক্সবাজার জেলা জজ আদালতের নির্দেশে জব্দ করা দুটি বিলাসবহুল বাড়ি ও প্রায় ছয় কোটি টাকার সম্পদ ছাড়িয়ে নিতে হাইকোর্টের আবেদন করে কক্সবাজারের আলোচিত ইয়াবা কারবারি নুরুল হক ভুট্টো।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের একাধিক তালিকায় থাকা টেকনাফের শীর্ষ ইয়াবা কারবারি নুরুল হক ভুট্টো সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

হাইকোর্টে ভুট্টোর আবেদনের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক সাংবাদিকদের বলেন: অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে করা এক মামলার তদন্তে নুরুল হক ভুট্টো ও তার পরিবারের অবৈধ সম্পদের তথ্য পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপর সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম (ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াড) এর সহকারি পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট টেকনাফ থানায় নুরুল হক ভুট্টো, তার বাবা, স্ত্রী, ভাইসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এ মামলায় পুলিশের আবেদনে গত ৫ মার্চ কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ খোন্দকার হাসান মো. ফিরোজ এক আদেশে ভুট্টোর পরিবারের সম্পদ জব্দ করার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশে পুলিশ মামলায় বর্ণিত সম্পদ জব্দ করে। সেই থেকে এই সম্পদ জব্দ করা অবস্থায় রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী আরও বলেন: টেকনাফ থানায় যেদিন মামলা হয়েছিল (২০১৭ সালের ২৯ আগষ্ট) পুলিশ সেদিনই নুরুল হক ভুট্টোকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি গত বছর ২৮ মার্চ হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন। এরপর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর দীর্ঘদিন নিম্ন আদালতে হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দাখিল করেছেন। আর এই মামলার আসামি ভুট্টোর ভাই নুর মোহাম্মদ গত ২১ মার্চ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পরদিন ক্রসফায়ারে নিহত হন।

ভুট্টোর বিষয়ে প্রকাশিত একাধিক সংবাদ থেকে জানা যায় ২০০৯ সালে কক্সবাজারে রিক্সা চালাতেন ভুট্টো। পরে তিনি ইয়াবা পাচারের টাকায় বিলাসবহুল বাড়ি করেন।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন