ছয় লাখ পিস ইয়াবার মামলায় চার আসামির ১৫ বছর কারাদণ্ড

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার ছয় লাখ পিস ইয়াবার একটি মামলায় চার আসামির ১৫ বছর করে কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. রবিউল আলম আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের প্রত্যেকের ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড আনাদায়ে তাদের প্রত্যেকের ছয় মাস করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যে কাভার্টভ্যান থেকে ছয় লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছিল, সেই কাভার্টভ্যানের জিম্মা বাতিল করে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

দণ্ডিতরা হলেন- নারায়ণগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ থানার পূর্বগ্রামের মো. সফর আলীর ছেলে মো. মুক্তার হোসেন (৩৯), চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা থানার রায়পুর গ্রামের আব্দুস সবুরের ছেলে মিজানুর রহমান বাবু (২৫), বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট থানার চরকুলিয়া গ্রামের মো. লায়েকুজ্জামানের ছেলে মো. সোহেল আহমেদ (৩৫) ও ঢাকার ডেমরা থানাধীন শরিফের বাড়ীর ভাড়াটিয়া মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে মো. জনি (২৯)। আসামিরা সবাই কারাগারে রয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় তাদের আদালতে হাজির করা হয়। রায়ের পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে আবারও তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ওই আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর বলেন, ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী যত পিস ইয়াবা পাওয়া যাক, তার সর্বোচ্চ সাজা ১৫ বছর কারাদণ্ড। রায়ে যা আদালত প্রদান করেছেন। বর্তমান আইন অনুযায়ী হলে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারতো বলে তিনি জানান।

তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রাশেদ বলেন, এ মামলায় কোনো আসামির কাছ থেকে একটি ইয়াবাও উদ্ধার হয়নি। মূলত আসামি মুক্তারের বাবা মো. সফর আলীর ১১টি কাভার্টভ্যান রয়েছে। তিনি সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করেন। যা আসামি মুক্তার দেখাশোনা করতেন। ঘটনার দিন কাভার্টভ্যান আটক করে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিল মামলার বাদী পুলিশ পরিদর্শক বিপ্লব কিশোর শীল। না দেওয়ায় ছয় লাখ পিস ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেন। ওই ৬ লাখ পিস ইয়াবা বাদীসহ অন্যরা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শামীম সরদারকে ১৭ লাখ পিস ইয়াবাসহ আটক করে গুম করেন। পরে সেখান থেকে ১৫ লাখ পিস সরিয়ে রাখেন। যে বিষয়ে মিডিয়ার রিপোর্টও হয়েছিল। সেখান থেকেই ৬ লাখ পিস ইয়াবা দিয়ে নিরাপরাধ ব্যক্তিদের ফাঁসানো হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মাদ আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় যাত্রাবাড়ী থানাধীন কাজলা এস শাহ সিএনজি ফ্লিলিং এন্ড কনভারশন ষ্টেশনের সামনে রাস্তার উপর চট্টগ্রাম থেকে আসা কাভার্টভ্যান আটক হয়। পরে কাভার্টভ্যানের ড্রাইভিং সিটের পেছনের টুলবক্সের ভেতর প্লাস্টিকের বস্তায় ২০টি বান্ডেলে ছয় লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়।

ওই ঘটনায় কাউন্টার টেরোরিজমের পুলিশ পরির্দশক বিপ্লব কিশোর শীল একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের পর একই বিভাগের এসআই নৃপেন কুমার ভৌমিক আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন