চাকরির প্রলোভনে পাচার হচ্ছে রোহিঙ্গা নারীরা : জড়িয়ে পড়ছে যৌন পেশায়

উখিয়া নিউজ ডটকম::hi
মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্রবাদী রাখাইনদের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ সীমান্ত ফাঁড়ি দিয়ে এদেশে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রেখেছে। রোহিঙ্গারা এ দেশে প্রবেশ করেই বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ উপজেলা টেকনাফের নয়াপাড়া, লেদা, লম্বাবিল, হোয়াইক্যং, শামলাপুর ও উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, থাইনখালী, পালংখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী বস্তিতে আশ্রয় নেয়। এসব বস্তিতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নারীরা চাকরির প্রলোভনে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশের বিভিন্নস্থানে পাচার হচ্ছে। জড়িয়ে পড়ছে যৌন পেশায়। খবর নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা বস্তির সি-বø­কের বাসিন্দা ইয়াছমিন আক্তার (ছদ্মনাম)। বয়স ১৬ ছুঁইছুঁই। সে জানায়, ৬ মাস আগে তারা বিজিবি’র চোখ ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে মা-বাবার সঙ্গে। তার এক নিকটাত্মীয়ের সহায়তায় আশ্রয় নিয়েছে সরকারি বনভ‚মির বিশাল এলাকাজুড়ে অবৈধভাবে গড়ে উঠা রোহিঙ্গা বস্তিতে। ৩ বোন, মা-বাবাসহ ৫ জনের সংসার। বস্তির ছোট্ট একটি কুঁড়েঘরে থাকার ২ মাস পর পরিচয় ঘটে রোহিঙ্গাদের নেতা বস্তির মাঝির মেয়ে সাহানা আক্তারের সঙ্গে। সে প্রস্তাব দেয় যৌন পেশায় এসে কাড়িকাড়ি টাকা কামানোর। অভাবের সংসার, তাই তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়। তার সহায়তায় সে সপ্তাহে ৫ দিন কন্ট্রাকের মাধ্যমে কক্সবাজারের অভিজাত বিভিন্ন হোটেলে খদ্দরদের মনোরঞ্জন করে যাচ্ছে। সেই থেকে পথ চলা, আর থামাতে পারেনি ইয়াছমিনকে।
সূত্রটি জানায়, কক্সবাজারের বিলাশ বহুল ভাড়া করা ফ্ল­াট বাড়িতে সাহানাসহ একাধিক রোহিঙ্গা নারী মিলে এ অবৈধ যৌন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। শীতকালে পর্যটন মৌসুমে ভালো চাহিদা থাকায় সপ্তাহের ৭ দিনই তাকে কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করতে হয়। শুধু ইয়াছমিন আক্তার নয়, উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির থেকে উঠতি বয়সের প্রায় ৩ শতাধিক কিশোরী দিয়ে যৌন ব্যবসা করানো হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শরণার্থী শিবিরগুলোতে দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রোহিঙ্গা যুবতীদের অবাধ এ ব্যবসা দীর্ঘদিন থেকে চলছে। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের অভিযানে কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গা নারী খদ্দেরসহ ধরাও পড়ছে। লোভ দেখানো প্রশাসনের এ অভিযান মোটেই পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা এ বিষয়ে ব্যাপক লেখালেখি করার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান।
কুতুপালং বাজার সমিতির সভাপতি গ্রাম ডাক্তার মুজিব জানান, প্রতিদিন ভোরে ও সন্ধ্যাবেলা কালো বোরকা পরিহিত রোহিঙ্গা নারীরা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে চলে যাচ্ছে কক্সবাজার শহরে। বর্তমানে শীত মৌসুমকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের এক শ্রেণীর হোটেল মালিক পর্যটকদের মনোরঞ্জনের জন্য এসব রোহিঙ্গা কিশোরীদের নিয়ে যৌন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে রোহিঙ্গা কিশোরীরা পুলিশের হাতে আটক হলেও পেশাদার দালালদের সহযোগিতায় তারা জামিনে বেরিয়ে আসছে। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শিবিরের এসব রোহিঙ্গা কিশোরীদের জেলা শহর ও দেশের বিভিন্নস্থানের নামিদামি হোটেলে দেহ ব্যবসা করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
সূত্র জানায়, অনেকে অভাবের তাড়নায় এ পেশাকে স্থায়ী পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গা শিবির কেন্দ্রীক বেশ ক’টি পাচারকারি চক্র সক্রিয় রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা সূত্রাপুর থানায় কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের নুরুল হক মাঝির মেয়ে ফাতেমা বেগম ৫/৬ জনের একদল কিশোরী নিয়ে ভাড়া বাসায় আটক হয়। বর্তমানে মামলাটি ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বিচারাধীন।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য বখতিয়ার আহমদ জানান, ক্যাম্পভিত্তিক মানবপাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। রোহিঙ্গারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এখন অবস্থান করছে। নারী ব্যবসা থেকে শুরু করে এহেন কোন কাজ নেই যে রোহিঙ্গারা করছে না।
এনজিও সংস্থা হেল্প কক্সবাজার এর নির্বাহী পরিচালক জানান, রোহিঙ্গারা কক্সবাজার বাসির কাছে বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে। তাদের অবাধ বিচরণ ও বেশ্যা বাণিজ্য বন্ধ করা না গেলে এবং প্রত্যাবাসন করা না হলে এখানকার সামাজিক অবক্ষয় দেখা দেওয়ার ও মূল্যবোধ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।