চমৎকার ভোট হয়েছে, আমরা সন্তুষ্ট: ইসি

ডেস্ক রিপোর্ট:: omom
এরইমধ্যে বিএনপি ও বামপন্থি প্রার্থীদের পক্ষ থেকে নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে অভিযোগ করা হলেও খুলনা সিটি করপোরেশনে অত্যন্ত চমৎকার ও সুন্দর ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইসঙ্গে খুলনা সিটি ভোটের মধ্য দিয়ে কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা বাড়বে বলেও মনে করছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (১৫ মে) খুলনা সিটি করপোরেশনের ভোট শেষে সন্ধ্যা ৬টায় আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের কমিশনের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরতে গিয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এমন দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘যতটুকু হয়েছে, তাতে নির্বাচন কমিশন সন্তুষ্ট।’

তিনটি কেন্দ্রে অনিয়ম-জালভোট ছাড়া বাকি ২৮৬টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে চমৎকার সুন্দর নির্বাচন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব।

তিনি বলেন, ‘২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি কেন্দ্র স্থগিত হয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোয় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। আমরা ভোট পরিস্থিতি নানাভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। চমৎকার ও সুন্দর এবং উৎসবমুখর পরিবেশে খুলনায় নির্বাচন হয়েছে।’

ভোট শেষ হওয়ার আধ ঘণ্টার মধ্যে ইভিএমের দুই কেন্দ্রে ফল ঘোষণা সম্ভব হয়েছে। বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে জালভোট, ভাঙচুর ও নানা অভিযোগ থাকলেও স্থগিত তিন কেন্দ্র ছাড়া অন্য কেন্দ্রে তা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

বিএনপির অভিযোগ পেয়ে ইসি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে খতিয়ে দেখা হয়েছে বলেও জানান হেলালুদ্দীন আহমদ।

জাতীয় নির্বাচনের আগে খুলনার এমন ভোট জনমনে আস্থা কিংবা শঙ্কা বাড়বে কিনা জানতে চাইলে ইসি সচিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ মুহূর্তে এ নিয়ে মন্তব্য করবো না। সবার নজর খুলনার দিকে। এটা একটা স্থানীয় নির্বাচন। তাতে যতটুকু হয়েছে তাতে নির্বাচন কমিশন সন্তুষ্ট।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করেই সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন সচিব।

কেন্দ্র দখল, ভোট জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আর শঙ্কা কাটিয়ে মঙ্গলবার (১৫ মে) বিকেলে ৪টায় শেষ হয় খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রে কেন্দ্রে শুরু হয় ভোটগণনা। সন্ধ্যা নাগাদ আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা হতে পারে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্র প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে। এর আগে সকাল ৮টা থেকে একযোগে নগরীর ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

এদিকে ভোট ঘিরে বড় কোনও সাংঘর্ষিক ঘটনা না ঘটলেও জালভোটের অভিযোগ এনে এদিন দুপুর ১টার দিকে ৩০নং ওয়ার্ডের রুপসা হাইস্কুল ও রুপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দুটির ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।

২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের পাশে বিএনপির তাঁবু ভাঙচুর ও কেন্দ্রে হট্টগোল হওয়ায় একটি বুথ এবং ২২নং ওয়ার্ডের ফাতেমা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের একটি বুথে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার-সমর্থকদের মধ্যে টুকটাক বাক-বিতণ্ডার ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। তবে বড় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

উল্লেখ্য, এবারই প্রথম খুলনায় মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেয়র পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া নগরীর ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪৮ জন এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবারের নির্বাচনে খুলনা সিটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ ও নারী ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন। ভোটকক্ষ ১ হাজার ১৭৮টি।

এ নির্বাচনে ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্র রয়েছে ২৫৪টি এবং ৩৫টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এবার ভোট কক্ষ রয়েছে ১ হাজার ৫৬১টি। আর অস্থায়ী ভোট কক্ষ ৫৫টি। প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার রয়েছে ৪ হাজার ৯৭২ জন।