চমক নিয়ে আসছে ছাত্রলীগ, শীর্ষ পদের লড়াইয়ে ৩০০ নেতা!

ডেস্ক নিউজঃ ছাত্রলীগে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন প্রায় তিনশ নেতা। সংগঠনের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী এই নেতাদের সঙ্গে গণভবনে আজ বুধবার বৈঠক করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংগঠনটির ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরিফুর রহমান লিমন জানান, ছাত্রলীগের শীর্ষ দুটি পদের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ৩২৩টি। এর মধ্যে একই ব্যক্তি সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দুই পদের জন্যও ফরম সংগ্রহ করেছেন। এ কারণে পদপ্রত্যাশীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পৌনে তিনশর মতো। আগামীকাল বুধবার সন্ধ্যায় এই নেতাদের গণভবনে ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একমাত্র অভিভাবক ও প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। এরপর কমিটি করবে, কখন ঘোষণা হবে, সে সিদ্ধান্তও তিনি নেবেন। জানা গেছে, ছাত্রলীগের পদপত্যাশী নেতাদের সম্পর্কে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর নেয়ার পর গণভবনে তাদের ডাকা হয়েছে। সাক্ষাতের পরই নতুন কমিটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেবেন শেখ হাসিনা।

জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ জানান, প্রায় দেড় মাস আগে ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামীকাল বুধবার ছাত্রলীগের অভিভাবক দেশরত্ন শেখ হাসিনা পদপত্যাশীদের গণভবনে ডেকেছেন। তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। এরপর নতুন কমিটি ঘোষণার বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত দেবেন। কারণ দেশরত্ন শেখ হাসিনাই ছাত্রলীগের একমাত্র অভিভাবক। ছাত্রলীগ তার নির্দেশেই পরিচালিত হয়।

জাতীয় সম্মেলনের আগে ছাত্রলীগের ৩টি গুরুত্বপূর্ণ শাখা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, উত্তর ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই তিনটি শাখারও নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার সঙ্গে এই তিনটি শাখারও কমিটি ঘোষণা করা হবে।

এবারই প্রথম সম্মেলনের দেড় মাস অতিবাহিত হলেও নতুন কমিটি ঘোষণা হয়নি। বর্তমান কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। ২০১৫ সালের ২৬ ও ২৭ জুলাই সংগঠনটির ২৮তম জাতীয় সম্মেলনে তারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এর ৭ মাস পর ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রায় ২ বছর ৯ মাস পর গত ১১ মে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২৯তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন ১২ মে দ্বিতীয় অধিবেশনে ভোটের পরিবর্তে সমঝোতার মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। ফলে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বিভিন্ন গোয়েন্দাসূত্রের মাধ্যমে একাধিক যাছাই-বাছাই শেষে গণভবনে ডেকেছেন পদপত্যাশীদের।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে তাদের ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ৪ জুলাই তাদের সঙ্গে কথা বলার পর নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। সূত্র: ভোরের কাগজ/ জাগো নিউজ