গর্ভপাত ঘটাতে গিয়ে ঢাবি’র ভর্তিচ্ছু ছাত্রীর মৃত্যু, প্রেমিক গ্রেফতার

গাইবান্ধা: ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া হলো না গাইবান্ধার প্রত্যন্ত গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ে জেসমিন আক্তারের। প্রেমিক আতিকুর রহমানের চাপে বৃহস্পতিবার গর্ভপাত ঘটাতে গিয়ে মৃত্যু হয় জেসমিন আক্তারের। এই ঘটনায় পুলিশ প্রেমিক আতিকুরকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ জানায়, গাইবান্ধার হাজী ওসমান গণি স্কুল এন্ড কলেজে পড়ার সময় দুই বছর আগে আতিকুর ও জেসমিনের বন্ধুত্ব হয়। পরে শারীরিক সম্পর্কের এক পর্যায়ে জেসমিন গর্ভবতী হয়ে পড়ে। গত বৃহস্পতিবার আতিকুর গাইবান্ধা শহরের এক বাসায় হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে জেসমিনের গর্ভপাত ঘটানো হয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে জেসমিন মারা যায়।
জেসমিনের মা সুমি বেগম বলেন, প্রথমের দিকে স্বপ্ন মনে হলেও কঠোর শ্রম আর মেধা দিয়ে সেই অসাধ্যকে সাধন করে আমার মেয়ে জেসমিন। তিনি বলেন, আমার স্বামী খলিল মিয়া হোটেল শ্রমিক। অনেক কষ্টে মেয়ে জেসমিনের লেখাপড়ার খরচ জোগার করেছে। তিনি আরও বলেন, জেসমিনকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিলো। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াও গত ৬ দিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার কথা বলে বাবা-মায়ের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় জেসমিন। যাওয়ার সময় জেসমিন বলে আম্মু গো আমি যাই, টেনশন করো না। কথাগুলো বলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন জেসমিনের মা সুমি বেগম।
জেসমিনের বাবা খলিল মিয়া জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে তার মেয়ের গাইবান্ধায় ফেরার কথা। বৃহস্পতিবার বিকেলে একাধিকবার জেসমিনের মোবাইলে পরিবারের লোকজন ফোন করলে তা রিসিভ হয়নি। এরপর সন্ধ্যায় জেসমিনের মোবাইল থেকে তার বন্ধু আতিকুর ফোন করে পরিবারকে জানায়, জেসমিন গাইবান্ধায় হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছে। এরপর মৃত্যুর কারণ হিসেবে একেকবার একেক রকম কথা বলে আতিকুর। সন্দেহ হলে রাতেই আতিকুরকে ধরে ফেলে এলাকার লোকজন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং জেসমিনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. শাহরিয়ার বলেন, এঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া গর্ভপাত ঘটানো ভ্রুসহ হাতুরে চিকিৎসককে খোঁজা হচ্ছে। এই ঘটনায় আরো কেউ জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শীর্ষনিউজ