‘খালেদার সুগার লেভেল কমে গিয়েছিল, চকলেট খাইয়ে ঠিক করা হয়’

ঢাকা: কারাবন্দি খালেদা জিয়া অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন দাবি করে তার আইনজীবীরা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া যে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন, এটা ঠিক না। তার সুগার লেভেল পড়ে যাওয়ায় উনি দাঁড়ানো থেকে ঘুরে গিয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে চকলেট খাইয়ে ঠিক করা হয়েছিল।’

আদালতের সহানূভুতি পাওয়ার জন্যেই তারা (খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা) এমন করছেন বলেও অভিযোগ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

রোববার (১০ জনু) কুমিল্লার নাশকতার এক মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করেন আদালত। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ সব কথা বলেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বিষয়ে যে বক্তব্য আদালতে (খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা) রেখেছেন, আমি জানি এ বিষয়টি নিয়ে তারা মিডিয়াকে মাতাবেন, অনেক কিছু বলবেন। তাই আমি আদালতে যাওয়ার আগে আইজি প্রিজনের সঙ্গে আলাপ করেছি। আইজি প্রিজন যে তথ্য আমাকে দিয়েছেন, গত ৫ জুন ইফতারির ঠিক আগে আগে ওনার (খালেদার) সুগার লেভেল কমে গিয়েছিল। সুগার লেভেল পড়ে যাওয়ার পরে উনি দাঁড়ানো থেকে ঘুরে গিয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে চকলেট খাইয়ে ঠিক করা হয়েছিল। এ বয়সে যার ডায়াবেটিক আছে তার সুগার লেভেল তো সারাদিন পরে একটু এদিক-ওদিক হতেই পারে।’

তিনি বলেন, ‘এটা আমার কাছে বিশেষ রকম ব্যাপার মনে হয়, আজ একটি মামলার তারিখ, আর তার আগের দিন গতকাল তার চিকিৎসকরা কারাগারে গেলেন। কারাগার থেকে এসেই এমন একটা প্রেস কনফারেন্স করে ফেললেন যে, তিনি অজ্ঞান ছিলেন। তিনি যদি অজ্ঞান হতেন তাহলে নিশ্চই আইজি প্রিজনের কাছে রিপোর্ট থাকত, সিভিল সার্জন জানত। এগুলো নিয়ে তারা একটি জনমত সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। উনি অজ্ঞান হননি, উনার সুগার লেভেল কমে গিয়েছিলো। এই হলো আসল কথা।’

ডাক্তার বলছে মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছে এ সম্পর্কে অ্যাটর্নি বলেন, ‘এটাও ঠিক না। তিনি অসুস্থ হলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এনে স্ক্যান করা হতো। তার চিকিৎসায় সরকার কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, কোন আসামির ব্যাপারে আপনারা দেখেছেন ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের চাইলে যেতে দেওয়া হয়? কিন্তু তারা যাতে কোনোরকম সরকারকে দোষারোপ করতে না পারে এ জন্যই সরকার বেশ কয়েকবার তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের জেলে যেতে অনুমতি দিয়েছে।’

মাহবুবে আলম বলেন, ‘দুঃখজনক ব্যাপার হলো, চিকিৎসকরাও যদি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান এবং এ ধরণের কথা বলেন তিনি অজ্ঞান হননি তারা বলছে সাত/আট মিনিট অজ্ঞান ছিলেন, এটা দুঃখজনক।’

‘আজকে মামলার শুনানি অথচ ব্যাক্তিগত চিকিৎসকরা গতকাল গেল তার সঙ্গে দেখা করতে। ৫ জুন যদি তিনি অজ্ঞান হতেন তাহলে সেদিনই বিষয়টি মিডিয়াতে আসত। কিন্তু তা আসেনি। আজ ১০ জুন। এ বিষয়টি নিয়ে ঘোলাটে করার চেষ্টা হচ্ছে। একটা বিভ্রান্ত তথ্য দেওয়া হচ্ছে।’

আদালতের সহানূভুতি পাওয়ার জন্যেই তারা (খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা) এমন করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

‘অ্যাটর্নি জেনারেলের সম্মতি ছাড়া খালেদা জিয়ার জামিন মিলবে না’ খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের এমন বক্তব্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এটা শুধু মিথ্যা কথা নয়, দুঃখজনক এবং আদালত অবমাননাকর। আদালত কারো কথায় চলে না। আমার কথা বা সরকারের কথায় চলার তো প্রশ্নেই আসে না। কাজেই এ কথাগুলো বলছেন তাতে মনে হচ্ছে, তারা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন।’

বিএনপির আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না বলে এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘আমাদের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং তারা তাদের নিজেদের বিবেক, বিচার, বিশ্লেষণ দ্বারা পরিচালিত হবেন। খালেদা জিয়াকে তারা (হাইকোর্ট) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন দিয়েছেন। সুতরাং এ রকম কোনো অভিযোগ করা অহেতুক যে, অ্যাটর্নি জেনারেলের সম্মতি ছাড়া কোনো জামিন হবে না। বহু মামলায় তারা জামিন নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন।’

শনিবার (১০ জুন) বিকেলে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে দেখতে তার ব্যক্তিগত চার চিকিৎসক পুরোনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে যান। সেখানে থেকে ফিরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী তাদের পর্যবেক্ষণ সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘গত মঙ্গলবার খালেদা জিয়া হঠাৎ করে পড়ে গিয়েছিলেন। তিনি ওই সময়টার কথা বলতে পারছেন না। তার একটি ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ হয়েছিল।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ড মাথায় নিয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নাজিম উদ্দীন রোডের পুরনো কারাগারে বন্দি রয়েছেন খালেদা জিয়া।