ad

খালেদার ‘বিদেশের সম্পদের’ বিবরণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

উখিয়া নিউজ ডেস্ক::
বিদেশে খালেদা জিয়ার ‘বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি’র বিবরণ সংসদে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।দেশের বাইরে কোনো সম্পদ থাকার কথা বিএনপির অস্বীকারের প্রেক্ষাপটে বুধবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগের এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে এই বিবরণ দেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিবরণ অনুযায়ী, বিএনপি চেয়ারপারসনের বেলজিয়ামে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার, মালয়েশিয়ায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার, দুবাইয়ে কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের বাড়ি ও সৌদি আরবে মার্কেটসহ অন্যান্য সম্পত্তি রয়েছে।

বিএনপির অস্বীকারের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “পৃথিবীর দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তির তালিকায় খালেদা জিয়া তিন নম্বর হিসেবে সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন মিডিয়াতে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। খালেদা জিয়া প্রকাশিত এ সকল সংবাদের কোনো প্রতিবাদ জানাযন নাই।”

শেখ হাসিনা সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিদেশি গণমাধ্যমে খালেদা জিয়ার বিদেশে সম্পদ থাকার তথ্যের কথা উল্লেখ করলে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তারা এই ধরনের খবর কোথাও খুঁজে পাননি। বিদেশেও খালেদা জিয়ার কোনো সম্পদ নেই।

এরপর বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য উকিল নোটিস পাঠানোর কথাও জানান ফখরুল। তবে সেই নোটিস প্রধানমন্ত্রীর পাওয়ার কথা এখনও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, নোটিস পেলে জবাব দেওয়া হবে।

এর মধ্যেই বুধবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পী বিএনপি চেয়ারপারসনের সম্পদের বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খানিকটা বিবরণ দিয়ে বলেন, “বিশ্বের অনেক দেশে খালেদা জিয়ার ছেলেদের টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে, যা তদন্তাধীন রয়েছে।”

দুর্নীতি ও অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এদেশের জনগণের সম্পদ আর লুটপাট, পাচার করতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের অপকর্ম তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ইতোপূর্বে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা একযোগে কাজ করে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর পাচার করা ২০ লাখ ৪১ হাজার ৫৩৪ দশমিক ৮৮ ডলার ফেরত আনার কথাও বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “তারেক রহমান দেশের বাইরে প্রচুর অর্থ পাচার করেছে। তারেক ও তার ব্যবসায়িক পার্টনার গিয়াস উদ্দিন আল মামুন যৌথভাবে একটি বিদেশি কোম্পানিকে কাজ দেওয়ার বিনিময়ে প্রায় ২১ কোটি টাকার মতো সিঙ্গাপুরে সিটিএনএ’এ ব্যাংকে পাচার করেছে।

“এ ব্যাপারে এফবিআইও তদন্ত করেছে। এ মামলায় হাই কোর্ট তারেক রহমানকে সাত বছরের সাজা দিয়েছে। একইভাবে লন্ডনে ন্যাট ওয়েস্ট ব্যাংকেও প্রায় ছয় কোটি টাকা পাওয়া গেছে।”

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “অর্থ পাচারের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য বিভিন্নভাবে দেওয়া হয়েছে। আমরা ইন্টারনেটে এবং বিভিন্ন স্যোশাল মিডিয়াতে যা যা পেয়েছি, সেগুলো আমরা সম্পৃক্ত করে দিয়েছি।

“এটা কতটুকু সত্য কতটুকু ইয়ে.. তা যাদের নাম এসেছে তারা নিজেরাই এর জবাব দিতে পারবেন। এর মধ্য থেকে সবাই যাচাই বাছাই করে নেবেন, কোনটা সত্য, কোনটা মিথ্যা। কারও বিরুদ্ধে যদি মিথ্যা অভিযোগ থাকে তারা নিশ্চয়ই সেটা নিয়ে কনটেস্ট করবে।”