ক্যাম্পের ভেতরে বাইরে ২০ হাজার দোকানের মালিক রোহিঙ্গারা

মাহাবুবুর রহমান :
কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফে অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের ভেতরে বাইরে বিপুল সংখ্যক দোকান পাট তৈরি করে ব্যবসা বানিজ্য করছে। ইতি মধ্যে আনুমানিক ২০ হাজার দোকান তৈরি হয়েছে এর সব গুলোই পরিচালনা করছে রোহিঙ্গারা। নিয়ম না থাকলেও ব্যবসা করে রোহিঙ্গারা বিপুল টাকার মালিক বনে যাচ্ছে অন্যদিকে তাদের ভেতরে বাংলাদেশে স্থায়ী ভাবে বসাবাস করার একটি প্রবণতা তৈরি হয়ে যাচ্ছে এছাড়া বাংলাদেশে ব্যবসা বানিজ্য করে অর্জিত অর্থ দেশের স্বার্থ বিরুধী কাজে ব্যয় করছে বলে জানান স্থানীয়রা। এছাড়া রোহিঙ্গারা অবারিত ভাবে ব্যবসা বানিজ্য করার সুযোগ পাওয়ার কারনে স্থানীয়রা মারাত্বক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে জানা গেছে। এদিকে ক্যাম্প ইনচার্জ সহ সংশ্লিষ্টদের দাবী স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবকাঠামো তৈরি করে দিচ্ছে সেখানে রোহিঙ্গারা দোকান করছে আর প্রভাবশালীরা নিয়মিত ইজারার নামে টাকা নিচ্ছে।
উখিয়ার বালুখালী বি ৯ নাম্বার পান বাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বড় আকারের দোকানের ব্যবসা করছে রোহিঙ্গা আবদুস সবুর (৫০)। বর্তমানে তার দোকানে অন্তত ১ লাখ টাকার বিভিন্ন মালামাল আছে। এর মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। তার সাথে মোবাইলে কথা বলে জানা গেছে প্রায় ৫ মাস আগে থেকে দোকান করছে দৈনিক ৩০ হাজার টাকার বেশি বিক্রি হয়, এর মধ্যে লাভ থাকে। আর ক্যাম্পের বিভিন্ন বাসা বাড়ি বা এজেন্ট থেকে মালামাল সংগ্রহ করে। আবার কক্সবাজার সহ অনেক জায়গা থেকে গ্রাহক আসে মালামাল নিতে। তারা আমাদের কাছ থেকে বিভিন্ন মালামাল সংগ্রহ করে একটু বাড়তি দামে বাইরে গিয়ে বিক্রি করে। তিনি বলেন,আমাদের ক্যাম্পে অন্তত ১ হাজার দোকান বসেছে এর মধ্যে সবাই রোহিঙ্গা। কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি ব্লকের রোহিঙ্গা দোকানদার মোস্তাক আহামদ বলেন,এখানে কয়েক শত দোকান আছে। আমরা বার্মা থাকতেও দোকান করতাম,এখানে এসে প্রথমে কয়েক মাস ঘরে বসে থাকার পর এখানে দেখছি অনেকে দোকান পাট করছে পরে ভাবলাম আমি কেন বসে থাকবো। সে জন্য অনেক টাকা পূজি খাটিয়ে দোকান করেছি। ব্যবসাও বেশ ভাল চলছে। তার কাছে জানতে চাইলে বলেন,আমরা বাংলাদেশে বেশ ভাল আছি সত্যি কথা বলতে বার্মাতেও আমরা এত ভাল ছিলাম না এখন অনেক দিন থেকে আমরা ভাল আছি। প্রত্যাবাসন বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন,মায়ানমারে যতদিন আমাদের ঘর বাড়ি সহ ফেরত দেওয়া হবে না ততদিন ফেরত যাব না। বালুখালী ৯ নং ব্লকে কর্মরত মরিয়ম আক্তার নুপুর বলেন,আমাদের ক্যাম্পে পথে ঘাটে দোকান বসিয়েছে রোহিঙ্গারা। এর ফলে ঠিকমত হাটাও যায় না। আর বর্তমানে রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলাও যায় না তারা এখন স্থানীয়দের চেয়ে প্রভাবশালী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে উখিয়া টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে ভেতরে বাইরে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার দোকান গড়ে উঠেছে এবং প্রায় সব গুলো দোকান পরিচালনা করছেন রোহিঙ্গারা। এদিকে স্থানীয় প্রভাবশালী ফজলুল কাদের ভুট্টু নামের এক সাবেক মেম্বার সহ আরো অনেক প্রভাবশালী রোহিঙ্গাদের দোকান করতে দিয়ে নিয়মিত ইজারা আদায় করছে এমনকি দৈনিক ৪০ হাজার টাকাও হাসিল নেয় বলে জানা গেছে।
এদিকে উখিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহামদ বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অবস্থা খুবই খারাপ সেখানে ইতি মধ্যে কয়েক হাজার দোকান গড়ে উঠেছে সব গুলো দোকানের মালিক রোহিঙ্গা। তারা মাথার সেম্পু থেকে শুরু করে নখ কাটার মেশিন পর্যন্ত সব কিছু ফ্রি পাচ্ছে সপ্তাহে ১ বার চাল,ডাল থেকে শুরু করে সব কিছু এনজিও থেকে পায় তারা সে গুলো খেতে না পেরে বাইরে বিক্রি করে দেয়। এর পরে তারা এখন বেশির ভাগ ব্যবসা বানিজ্য করছে আবার কিছু আছে বাইরে শ্রমিক হিসাবে কাজ করছে মোট কথা তাদের এখন টাকার অভাব নেই। এক সময় তারা চাইলে এখানে জমি ও কিনতে পারবে। তারা যেভাবে আছে কোন স্থানীয় মানুষ সেভাবে ভাল নেই। বরং আমাদের স্থানীয় মানুষ এখন কাজ না পেয়ে বেকার হয়ে আছে। এবং আমি নিশ্চিত তারা বাংলাদেশ থেকে অর্জিত অর্থ বাংলাদেশের বিরুদ্ধেই খরচ করবে।
টেকনাফ কলেজের অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম বলেন,শুধু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নয় বাজারের সর্বত্র রোহিঙ্গারা ব্যবসা বানিজ্য করছে। পথের দুপাশ সহ বাজারের যেখানেই দেখা যায় সেখানেই দেখি রোহিঙ্গারাই ব্যবসা করছে। আমার মতে রোহিঙ্গারা যদি এত বেপরোয়া ভাবে নিজের ইচ্ছমত সব কিছু করতে পারে তাহলে একদিন সেটা আমাদের জন্য খুবই খারাপ হবে।
উখিয়ার নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন,আমার জানা মতে ক্যাম্প ইনচার্জের বদৌলতেই ক্যাম্পের ভেতরে সব অনিয়ম হচ্ছে। সেখানে কোন এনজিও কাজ করতে গেলে আগে উনার মন জয় করতে হয়। এছাড়া সেখানে বেশির ভাগ দোকান করে রোহিঙ্গারা কিন্তু সে সব দোকান থেকে মাসিক ভাড়া তুলে একটি পক্ষ আছে যারা মাসিক মাসোহারা দিয়েই এসব কাজ করছে।মূলত প্রশাসনিক ইন্দন না থাকলে কোন অনিয়ম সম্ভব না।
উখিয়ার ব্যবসায়ি নুরুল আবছার,নাছির উদ্দিন সহ অনেকে জানান,কোট বাজার সহ অনেক ষ্টেশনে যতগুলো খুচরা ব্যবসায়ি দেখবেন সব রোহিঙ্গা। এদের কারনে আমাদের ব্যবসা লাটে উঠার অবস্থা। কারন আমরা গাড়ী ভাড়া দিয়ে কক্সবাজার থেকে মালামাল আনি ওরা ত্রাণের মালামাল সংগ্রহ করে বিক্রি করতে আনে। আমি যতুটুক জানি অনেক রোহিঙ্গা এখন বিপুল টাকার মালিক বনে গেছে,যার ফলে তারা এখন বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে স্থানীয় গরীব মহিলাদের বিয়ে করছে ফলে তারা আর ফিরে যাওয়ার সম্ভবনা নেই। আর প্রত্যাবাসনের কথা মুখে আনা যায় না, আমরা শুনেছি ক্যাম্পে আগে মহিলা বা পুরুষদের অনেক সম্মান দিত রোহিঙ্গারা কিন্তু এখন তারা উল্টো স্থানীয় কর্মজীবিদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। আবার প্রতিবাদও করা যায় না।
এ ব্যপারে কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ রেজাউল করিম বলেন,আমি যোগদান করার আগে থেকেই দেখছি অনেক রোহিঙ্গা এখানে দোকান করছে এটা সত্যি উদ্বেগ জনক। এখন বেশির ভাগ দোকান পরিচালনা করছে রোহিঙ্গারা তবে এ সব দোকান বা মার্কেট করে দিয়েছে স্থানীয়রা। সুতরাং রোহিঙ্গারা দোকান বা ব্যবসা বানিজ্য করার পেছনে বেশির ভাগ দায়ী স্থানীয়রা। তিনি বলেন ইতি মধ্যে এক মেম্বার সরকারি পাহাড় কেটে বড় আকারের মার্কেট করছে সেগুলো রোহিঙ্গাদের ভাড়া দেবে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, রোহিঙ্গারা বেশি সংখ্যক হারে দোকান করাটা সমস্যার। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুত্র : ; দৈনিক কক্সবাজার

ad