কারাগারে স্বস্থিতে নেই ওসি প্রদীপ

এমনিতেই কারাগার হচ্ছে একটি অস্বস্থিকর স্থান। তার উপর শত শত ক্ষুব্ধ লোকজনের হাঁক ডাক। ওসি প্রদীপের নাম ধরে চিল্লাচিল্লি থেকে নানা টিপ্পনী সব মিলে আরেক অস্বস্থির বিষয়। কেননা টেকনাফ থানার ইয়াবা কারবারি এবং এবং ইয়াবা কারবারির তকমা লাগানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা রুজুকারি পুলিশ কর্মকর্তা হচ্ছেন টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া বিতর্কিত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।
ওসি প্রদীপকে কারাগারে ঢুকতে হচ্ছে-এমন খবরটি বৃহষ্পতিবার দুপুর থেকেই চাওর হয়ে পড়ে কক্সবাজারের কারাগারের ভিতর। সেই থেকে কারাগারে আটক থাকা ইয়াবা কারবারি এবং ইয়াবা কারবারির তকমা নিয়ে যারা আটক রয়েছেন তারা সবাই ক্ষীপ্ত হয়ে পড়েন।
প্রতি সপ্তাহে একদিন করে কারাগারে আটক বন্দী নিজের পরিজনের সাথে মোবাইলে কথা বলার সুযোগ পেয়ে থাকেন। বৃহষ্পতিবার বিকালে কক্সবাজার শহরের রুমালির ছড়া এলাকার এক কারাবন্দী ঘরে পরিবারের সদস্যদের সাথে আলাপ করতে গিয়ে এ তথ্য জানান। তিনি আরো জানান, কারাভ্যন্তরে টেকনাফ উপজেলার আটক লোকজন ছাড়াও অন্যান্য এলাকার বন্দীরাও ওসি প্রদীপের উপর ক্ষীপ্ত রয়েছেন।
কারাগারে আটক শত শত ক্ষুব্ধ লোকজন অধীর অপেক্ষায় ছিলেন সন্ধ্যা অবধি ওসি প্রদীপের কারাগারে ঢুকার দৃশ্যটি হলেও অবলোকন করতে। কিন্তু কারাগারে আটক ক্ষুব্ধ লোকজনের সেই শখ পূরণ হয়নি আদালতের কার্যক্রম সারতে দেরি হবার কারনে। বৃহষ্পতিবার রাত ১০ টার পরেই আদালত থেকে ওসি প্রদীপ ও পরিদর্শক লিয়াকত সহ ৭ পুলিশ আসামীকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ততক্ষণে নিয়মানুযায়ী কারাগারের সবগুলো ওয়ার্ড বন্ধ হয়ে পড়েছিল।
এদিকে কারাভ্যন্তরে বন্দীদের মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ্য করে কারা কর্তৃপক্ষ মেজর (অবঃ) সিনহা হত্যা মামলার অন্যতম আসামী ওসি প্রদীপ ও পরিদর্শক লিয়াকত সহ ৭ জন আসামীকে আলাদা ভাবে রাখার ব্যবস্থা করেছেন। এমনকি গতকাল শুক্রুবার সকাল থেকেই কারাগারের ভিতর থাকা আটক লোকজন ওসি প্রদীপের নাম ধরে চিল্লাচিল্লি শুরু করেন। অনেকেই অশ্লীল বাক্যও ছুঁড়তে ভুল করছেন না বলেও জানা গেছে।
কারা কর্তৃপক্ষ কারাভ্যন্তরের এমন পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে গতকাল সকাল থেকে ওসি প্রদীপসহ অন্যান্যদের রাখা ওয়ার্ডে সতর্কতা অবস্থা নিয়েছে। তাদের সকাল থেকে ওয়ার্ড থেকে বের হবারও সুযোগ দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে কারাগারের তত্বাবধায়ক মোজাম্মেল হোসেন বলেছেন, কারভ্যন্তরে কোন সমস্যা নেই-সব ঠিকঠাক রয়েছে।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন