কচ্ছপ গতির ফোর জি’তে বিরক্ত গ্রাহক

ডেস্ক রিপোর্ট::
কার্যক্রম শুরুর ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও চতুর্থ প্রজন্মের ইন্টারনেট সেবা ফোর জি’র দ্রুত গতির সুবিধা পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। স্পেকট্রামের উচ্চ মূল্যের কারণে টাওয়ারের ক্ষমতা বাড়াতে বেগ পেতে হচ্ছে বলে দাবি করেছে অপারেটর কোম্পানিগুলো। অন্যদিকে, ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বিটিআরসির আরও চাপ বাড়ানো উচিৎ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

কেবল কথা বলাতেই থেমে নেই মোবাইল ফোন। ব্যবসা বাণিজ্য, লেখাপড়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রতিদিনই বাড়ছে মোবাইলে ইন্টারনেটের ব্যবহার। বাসা বাড়ি, অফিস আদালতে ব্রডব্যান্ড ব্যবহারের পরও খেলার মাঠ থেকে শুরু করে বন্ধুদের আড্ডা, যাত্রা পথে অথবা ট্রাফিক জ্যামের ক্লান্তিকর সময়ে মোবাইল ফোনেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় কাজ সারছেন গ্রাহকরা। ব্যবহারকারীদের ৯৫ ভাগই এই মাধ্যমে ব্যবহার করলেও প্রতিশ্রুত গতি পাচ্ছেন না তারা।

সর্বোচ্চ ১৫০ এমবিপিএস আর সর্বনিম্ন ২০ মেগাবাইট পার সেকেন্ড গতি পাওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশে গড় গতি ২ থেকে ৭ এমবিপিএস। ডাটা স্পিড না বাড়লেও ইন্টারনেটের গ্রাহক সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন। বিটিআরসির তথ্য বলছে, ১৫ কোটি মোবাইল ফোন গ্রাহকের মধ্যে সাড়ে ৮ কোটিরও বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। যার ৮ কোটিই নেটব্রাউজ করেন মোবাইলে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক কাজী মুহাইমিন-আস-সাকিব বলেন, ঢাকাতে যারা উবার ব্যবহার করছেন তারা ডাটা ব্যবহার করছেন। এখানে বিটিআরসি’র একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব বলছে, সেবার মান বাড়াতে স্পেকট্রামের দাম কমানোর পাশাপাশি সহযোগী সেবা সংস্থার মাঝে সমন্বয় প্রয়োজন।

অন্যদিকে অপারেটরগুলোর ওপর তদারকি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি।

অ্যামটবের মহাসচিব টি আই এম নুরুল কবীর বলেন, ফোরজি ব্যবহার করতে হলে সাধারণ হ্যান্ডসেট ব্যবহার করে হবে না। ইকোসিস্টেম উন্নত করার জন্য সরকারের সহযোগিতা দরকার।

বিটিআরসি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জহিরুল হক বলেন, মোবাইল অপারেটরগুলোর যে পরিমাণ স্পেকট্রাম থাকা দরকার সেই পরিমাণ নেই। তারা কম টাকায় বেশি ব্যবসা করতে চান। আমরা তাদের খরচ কমানোর চেষ্টা করছি, পাশাপাশি তাদেরও বোঝাচ্ছি।

সারা দেশে ফোর জি নেটওয়ার্ক চালু করতে অপারেটরগুলোকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে বলে জানায় সরকারি এই সংস্থা।