কক্সবাজার সদরে ডাক্তার, ব্যাংকার, শিক্ষক ও আইনজীবী সহ আক্রান্ত ১১

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :
কক্সবাজার সদর উপজেলার পৌরসভার একটি এলাকাকে কেউ বলে ‘লকডাউন পাড়া’ আর কেউ বলে ‘করোনা পাড়া’। যারা ‘লকডাউন পাড়া’ নামকরণ করেছেন, তাদের যুক্তি হলো-পাড়াটির অধিকাংশ অলিগলি করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর কারণে কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে লকডাউন (Lockdown) করে দিয়েছেন। আর যারা ‘করোনা পাড়া’ নামকরণ করেছেন, তাদের যুক্তি হলো-যেখানে শুধু একটি পাড়ায় ২৩জন করোনা ভাইরাস জীবাণু আক্রান্ত হয়েছেন, সে পাড়াটিকে ‘করোনা পাড়া’ নামকরণই যুক্তিযুক্ত। তাদের দ্বিতীয় যুক্তি হলো-যে পাড়ায় শুধু একটি পরিবারেই ১৪জন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী আছে। তাই সে পাড়াটিকে ‘করোনা পাড়া’ নামকরণ অধিকতর শ্রেয়। কক্সবাজার শহরের বুনিয়াদি ও ঐতিহ্যবাহী এলাকাটির আসল নাম হলো-টেকপাড়া। এই টেকপাড়া এখন ভয়ংকর কোভিড ভাইরাস সংক্রামণের শিকার হয়ে করোনার ‘হটস্পট’ হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে জেলার সর্বত্র। কক্সবাজার সদর উপজেলায় বুধবার ২০মে করোনা আক্রান্ত হওয়া ১১জন রোগীর মধ্যেও ২জন হচ্ছেন, এই টেকপাড়ার বাসিন্দা। তারমধ্যে একজন হচ্ছেন গত ১৬মে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত নবীন চিকিৎসকের স্ত্রী মহিলা চিকিৎসক ও আরেকজন মহিলা চিকিৎসকের শ্বাশুড়ি। তাদের বাসস্থান পূর্ব টেকপাড়ায় মাস্টার বাড়ি এলাকায়, টেকপাড়ার বড়পুকুরের উত্তর পাড়ে।

এছাড়া পাহাড়তলী রোডের কচ্ছপিয়া পুকুর পাড়ে একজন সিনিয়র আইনজীবী করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন। তিনিও করোনার ‘হটস্পট’ হিসাবে পরিচিত ডুলাহাজারা ইউনিয়নের আদি বাসিন্দা। শহরের গোলদীঘির পাড়ে আক্রান্ত হওয়া রোগী হচ্ছেন, সোনালী ব্যাংকের একজন মহিলা কর্মকর্তা। কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলীতে আরো একজন পুরুষ, আলিরজাহালে একজন, বৈদ্যের ঘোনায় একজন, মোহাজের পাড়ায় একজন এবং ঈদগাহ ইউনিয়নের একজন বাসিন্দা বুধবারে করোনা আক্রান্তের তালিকায় রয়েছেন। সবচেয়ে বিষাদের বিষয় হলো-১১জনের মধ্যে খোরশেদ আলম নামক একজন টেস্ট রিপোর্ট ‘পজেটিভ’ পাওয়া আগেই বুধবার ভোর ৪টার দিকে না ফেরার দেশে চলে যান। তিনি মরিয়া প্রমাণ করেছেন-তিনি করোনা ‘পজেটিভ’ ছিলেন।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন