কক্সবাজার থেকে গ্যাস সিলিন্ডারে ইয়াবা পাচারঃ আটক-২

ডেস্ক রিপোর্ট – গ্যাসের সিলিন্ডার কেটে তার ভেতরে ইয়াবা রেখে সিলিন্ডারটি আবারও ঝালাই করা হতো। এরপর তা পাঠানো হতো কক্সবাজারের আলাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তির কাছে। সেখান থেকে একটি পিকআপে অন্যান্য গ্যাসের সিলিন্ডারের সঙ্গে ইয়াবাভর্তি সিলিন্ডারটি তুলে দেওয়া হতো। এভাবেই কক্সবাজার থেকে ঢাকায় পাচার করা হচ্ছিল ইয়াবা। বুধবার (৫ ডিসেম্বর) ভোরে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের নাবিস্কো মোড়ে গ্যাস সিলিণ্ডার ভর্তি একটি মিনি ট্রাক থেকে ইয়াবার এরকম একটি চালানসহ দুইজনকে আটক করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, অভিনব পন্থায় গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতর লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ১ লাখ ৪ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ মো. মামুন হাওলাদার (২৬) ও মো. মানিক (২৭) নামে দুজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। ৭০ হাজার টাকার বিনিময় কক্সবাজার থেকে ইয়াবার চালানটি ঢাকায় আনা হয়েছিল।

র‌্যাব-২ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি মোহাম্মদ সাইফুল মালিক জানান, রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার নাবিস্কো মোড়ে টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেডের সামনে পাকারাস্তার ওপর ওই মিনি ট্রাকটি (পিকআপ) এল প্রথমে থামার জন্য সংকেত দেওয়া হয়। এসময় ওই মিনি ট্রাকের চালক ও হেলপার ট্রাকটি থামিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখন ট্রাকচালক মো. মামুন হাওলাদার ও হেলপার মো. মানিককে আটক করা হয়।

ad

তিনি আরও জানান, আটকের পর আসামিরা ইয়াবার চালানের বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে তারা স্বীকার করে। এরপর আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিনি ট্রাকে থাকা ৩৩টি গ্যাস সিলিন্ডারের মধ্যে থেকে ২টি কাটা গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যায়। এই ২ সিলিন্ডারের ভেতর বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।

গ্রেফতার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাদ দিয়ে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, অভিনব পন্থায় গ্যাস সিলিন্ডার কেটে তার ভেতরে ইয়াবা ঢুকিয়ে আবারও সিলিন্ডার ঝালাই করা হয়। পরে সেগুলো কক্সবাজারের মাদক ব্যবসায়ী আলাউদ্দিনের কাছে পৌঁছানো হয়। এরপর সেখান থেকে এই চালান বিভিন্ন কৌশলে বিশেষ কায়দায় ঢাকায় পাঠানো হয়। আজকের চালানটি পৌঁছে দিতে পারলে মিনি ট্রাক চালক মামুন ও হেলপার মানিককে ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হতো বলে জানায়।

এর আগেও বেশ কয়েকটি ইয়াবার চালান সফলভাবে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলেও জানায় আসামিরা।

র‌্যাব আরও জানায়, আটক আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই বাছাইয়ের কাজ চলছে। তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।