ad

কক্সবাজারে পুলিশের টোকেনে চলছে ১০ হাজার সিএনজি!

যানজটের অজুহাতে গত ৩ বছর ধরে কক্সবাজারে সিএনজি টেক্সির লাইসেন্স প্রদান বন্ধ। তবু বিক্রি হচ্ছে শো-রুমে, চলছে রাস্তায়। এভাবে জেলা সদরসহ আট উপজেলার ৩৪ রুটে অবাধে চলছে লাইসেন্সবিহীন প্রায় ১০ হাজার সিএনজি। এতে সরকার শুধু লাইসেন্স বাবদ ১১ কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার ও প্রতিবছর লাইসেন্স নবায়ন ফি বাবদ ৬ কোটি ৪৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকার রাজস্ব হারিয়েছে।
কক্সবাজার বিআরটিএ অফিস সূত্রের মতে জেলার সড়ক-মহাসড়কসহ ৩৪টি অভ্যন্তরীণ রুটে বৈধ ও অবৈধ মিলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রায় ১৬ হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করছে। এরমধ্যে ২০০০ সাল হতে ২০১৬ সালের শেষ সময় পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন পেয়েছে ৬ হাজার ৪৭টি সিএনজি অটোরিকশা। এসব অটোরিক্সার মধ্যে ইতোমধ্যে ফিটনেস হারিয়েছে এক তৃতীয়াংশ বা প্রায় দুই হাজার। আর অকেজো হয়ে আছে আরো দেড় হাজারের মতো। কিছু অটোরিক্সার লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলেও বছরের পর বছর ধরে তারা নবায়ন না করেই রাস্তায় চলছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে মাত্র ২ হাজার ২শ’টি সিএনজি অটোরিক্সার বৈধ লাইসেন্স রয়েছে।
কক্সবাজারে যানজটের অজুহাতে আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি (আরটিসি) গত ৩ বছর ধরে সিএনজি অটোরিক্সার লাইসেন্স প্রদান বন্ধ রাখলেও শহর ও শহরের বাইরের শো-রুম গুলোতে বেচাবিক্রি বন্ধ থাকেনি। এসব শোরুম থেকে ২০১৭ সাল হতে ২০১৯ সালের চলতি সময় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৯ হাজার সিএনজি অটোরিকশা বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এছাড়া পেকুয়া ও চকরিয়াসহ কিছু এলাকায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন শো-রুম থেকে এনেও সিএনজি অটোরিক্সা চালানো হচ্ছে। আর লাইসেন্সবিহীন এসব সিএনজি অটোরিক্সা ও মাহেন্দ্রগুলোতে নাম্বারপ্লেট হিসাবে রয়েছে ‘কক্সবাজার-থ-১১-’ সিরিয়াল নাম্বার, বাকিটা খালি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএনজি অটোরিক্সা মালিক ও চালকরা জানান, লাইসেন্স ফি দিতে না হলেও এর কয়েকগুণ অর্থ পরিশোধ করতে হয় ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশকে। সড়কে সমস্যা এড়াতে মাসিক ২২০০ থেকে তিন হাজার টাকায় ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশের টোকেন নিতে হয়। এছাড়া উপজেলা ভিত্তিক ‘অটোরিক্সা মালিক-চালক সমিতি’ বা অন্য কোন সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিক্সাগুলোকেও নির্দিষ্ট হারে অর্থ দিতে হয়। ফলে বিআরটিএ অফিসের বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব প্রতিষ্ঠান।
চালকরা জানান, কক্সবাজার শহরে চলাচল করতে হলে ট্রাফিক অফিস থেকে এবং মহাসড়কগুলোতে চলাচল করতে হলে রামু তুলাবাগান হাইওয়ে ক্রসিং থানা, ডুলাহাজারা মালুমঘাট হাইওয়ে ফাঁড়ি ও চিরিংঙ্গা হাইওয়ে ফাঁড়ি হতে টোকেন নিতে হয়।
চালক-মালিকদের মতে, পুলিশের মাসিক টোকেনটাই বড় লাইসেন্স। টোকেন থাকলে অপরাধ করলেও কোন মাথা ব্যথা থাকে না। কিন্তু বৈধ লাইসেন্স থাকলেও বিভিন্ন সময় এটা-সেটা বলে যানবাহন ধারায় মামলা ও জরিমানা দিয়ে হয়রানি করা হয়। তাই অনেক সিএনজি মালিক বিআরটিএ থেকে লাইসেন্স নবায়ন বন্ধ করে দিয়ে পুলিশের সাথে চুক্তি করছে।
তবে, চালক-মালিকদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কক্সবাজার ট্রাফিক বিভাগের সহকারি পুলিশ সুপার বাবুল চন্দ্র বণিক বলেন, অবৈধ সিএনজি অটোরিকশাসহ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। অবৈধ যানবাহন পেলেই যানবাহন নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারায় মামলা দিয়ে জরিমানা করা হয়। এতে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব পাচ্ছে।
বিআরটিএ কক্সবাজার সার্কেলের সহকারী পরিচালক উথোয়াইনু চৌধুরী বলেন, লাইসেন্স না পেলেও সড়কে চলাচল থেকে বিরত নেই শো-রুম থেকে কেনা সিএনজি অটোরিক্সাগুলো। তিনি বলেন, অবৈধ হলেও যেকোনভাবে চলার চেয়ে বিআরটিএ’র লাইসেন্স দেয়া গেলে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পাবে। নবায়নেও মিলবে ফি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। দেশের স্বার্থে রেজিস্ট্রেশন চালু দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শো-রুম কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, কক্সবাজারে অবৈধভাবে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিকশাগুলোকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনলে সরকার লাইসেন্স বাবদ রাজস্ব পেত প্রায় ১১ কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর নবায়ন ফি হিসেব করলে বিগত তিন বছরে আরো বাড়তি রাজস্ব আদায় হতো প্রায় ১৭ কোটি টাকা।
কক্সবাজার জেলা সিএনজি অটোরিক্সা-অটোটেম্পু মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ সভাপতি মুহাম্মদ ছিদ্দিক জানান, কক্সবাজার শহরের বাজারঘাটা, ভোলাবাবুর পেট্রোল পাম্প, লালদীঘিরপাড়, কোর্ট বিল্ডিং, কলাতলির মোড় স্ট্যান্ড থেকে ১০টি অভ্যন্তরীণ রুটে সহস্রাধিক সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করছে। এসব ছাড়াও রামু, উখিয়া, টেকনাফ, চকরিয়া, পেকুয়া, সদরের ঈদগাঁও, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী উপজেলায় অভ্যন্তরীণ ২৪টি রুটে ১০ থেকে ১২ হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করছে। প্রতি উপজেলার ইউনিয়ন সমূহে দ্রুতগামী যান হিসেবে সিএনজি অটোরিক্সার কদর বেশি। কারণ এসব উপসড়কে কোন মিনিবাস চলাচলের সুযোগ নেই।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন