কক্সবাজারে ৭ এনজিও কর্মকর্তা গ্রেফতার

উখিয়া নিউজ ডটকম::
কক্সবাজার শহরে এনজিও ব্যুরো কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত স্মল কাইন্ডনেস বাংলাদেশের (এসকেবি) ৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।পুলিশের দাবি, রোহিঙ্গা শিবিরে সহায়তার আড়ালে এই সংস্থাটি নানা ধরণের অপতৎপরতা চালায়। বৃহস্পতিবার ভোরে কক্সবাজার শহরের কলাতলীর একটি হোটেলে নাশকতা পরিকল্পনা বৈঠক থেকে এই সংস্থার ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- পিরোজপুরের মো. রুহুল আমিন খানের ছেলে আবুল বাশেদ (২৫), পিরোজপুরের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে জাকির হোসেন (৪০), পটোয়াখালীর ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে আল মামুন (২৮), নোয়াখালীর নুরুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৭), পিরোজপুরের জহির হোসেনের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ (২২), মাদারিপুরের আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. আসাদ (৩১) ও বরিশালের মৃত মোতাহের মিয়ার ছেলে মিলন ডালী (৪৫)।

জানা গেছে, এসকেবির কক্সবাজারের কার্যালয় কক্সবাজার শহরের কলাতলীর সৈকতপাড়া এলাকার ‘এবি সী এল রিসোর্ট এন্ড গেস্ট হাউজ নামে একটি হোটেলে। এই হোটেলের ৩য় তলায় এসকেবির কক্সবাজার কার্যালয়। ৩য় তলার দুটি ফ্ল্যাটে তাদের অফিস। বৃহস্পতিবার ভোরে অফিসে বসে নাশকতা পরিকল্পনার সময় তাদেরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ad

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দীন খন্দকার বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসকেবিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। কিন্তু এরপরও তারা গোপনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলো। ভোরে কলাতলীর একটি হোটেলের তাদের অফিসে নাশকতা পরিকল্পনার বৈঠকের খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখান থেকে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক নাশকতা পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে।
তিনি আরও বলেন, তাদের বিরুদ্ধে নাশকতা মামলা দায়ের করে করা হয়েছে।

জানা গেছে, এনজিও সংস্থা এসকেবি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরের নিয়ন্ত্রিত একটি সংস্থা। এই সংস্থার এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) হলেন এটিএম নাছির উদ্দিন। তিনি ছাত্র শিবিরের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ফুলকুড়ির’ কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। তার বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। এসকেবির নির্বাহী পরিচালক হলেন আবু হুরায়রা।

কক্সবাজারে এসকেবির নেতৃত্ব দেন জামায়াতে ইসলামীর কক্সবাজার শাখার সভাপতি মৌলানা মোস্তাফিজুর রহমান।

এসকেবি নামের এই এনজিওকে বেশিরভাগ ডোনেশন দেয় ‘আইএইচএইচ’ নামে একটি আন্তর্জাতিক দাতা এনজিও সংস্থা। আইএইচএইচ এর অর্থায়নে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় সময় গরু জবাই করে এসকেবি। এ পর্যন্ত এসকেবি আইএইচএইচ এর অর্থায়নে ১৬৪ টি গরু জবাই করেছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। গরু জবাইয়ের একটি প্রতিবেদন সম্প্রতি আইএইচএইচ এনজিওর কাছে পাঠায় এসকেবি। সেই প্রতিবেদনে গরু জবাইয়ের বিস্তারিত রয়েছে।

বেশির ভাগ উগ্রতা ছড়ানোর জন্য ক্যাম্পে রাখাইন ভাষায় লেখা ব্যানার-ফেস্টুন টাঙায় এই এনজিও। বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য অনুপ্রেরণা জোগায়। রোহিঙ্গাদের ছবি তুলে সেই ছবির ভিন্ন অর্থ তৈরি করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তরে ছড়িয়ে দেয়া; সর্বোপরি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উগ্রতা ছড়ানোই এসকেবির টার্গেট।