ad

কক্সবাজারে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বাবা-মেয়ের এ কেমন অভিনয়!

নিউজ ডেস্ক::
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থানা এলাকার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ বাবুল। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে। ওই মামলায় তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, তার ১৯ বছরের মেয়েকে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি কলেজ থেকে বাড়িতে ফেরার পথে অপহরণ ও গুম করেছে। আদালত তার অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলার তদন্তভার দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। দীর্ঘ ছয় মাস তদন্ত শেষে চাঞ্চল্যকর তথ্যসহ অপহরণ ও গুম হওয়া সেই তরুণীকে উদ্ধার করে পিবিআই। এ সময় ওই মেয়েটি চট্টগ্রামের স্থানীয় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কর্মরত অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অপহরণ ও গুম হওয়া সেই তরুণীকে উদ্ধারের পরে পিবিআই জানতে পারে যে মেয়েটিকে তার বাবাই সেখানে রেখেছিল। মূলত তার বাবা প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই মেয়েকে লুকিয়ে অন্যদের নামে মামলা দায়ের করেছিল নুর মোহাম্মদ বাবুল।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কক্সবাজার জেলা ইউনিট প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ্-আল্-মামুন দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

অপহরণ ও গুমের মামলায় যা ছিল    

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নুর মোহাম্মদ বাবুলের দায়ের করা মামলার নং ৪৬০/২০১৮ইং।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, কুতুবদিয়া মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিলেন মামলার বাদী নুর মোহাম্মদ বাবুলের মেয়ে। গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর কলেজ ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে মো. আলাউদ্দিন সহমোট ৪ জন ও অজ্ঞাতনামা ৩ থেকে ৫ জন নুর মোহাম্মদ বাবুলের মেয়েকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিল নুর মোহাম্মদ বাবুলের মেয়ে।

এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার করতে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেয়।

যেভাবে উদ্ধার হয় সেই তরুণী

পিবিআই কক্সবাজার জেলার ইউনিট প্রধান আবদুল্লাহ্-আল্-মামুন ওই তরুণীকে উদ্ধারের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘মামলাটির তদন্ত ভার পাওয়ার পরেই ভিকটিমকে উদ্ধারের কাজ শুরু করা হয়। মামলাটি তদন্তের কাজ করেছিল পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মনির হোসেন।

তদন্ত কর্মকর্তা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণ ও গুম হওয়া সেই তরুণীকে উদ্ধারের এবং  অবস্থান শনাক্তের কাজ শুরু করেন। পিবিআইয়ের তদন্তকালে ওই মেয়ের বাবা তার মেয়েকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য নানাভাবে পুলিশকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। কিন্তু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে অপহরণের সেই কথিত ঘটনাস্থল, ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর এবং পরিবারের সদস্যদের কিছু রহস্যজনক আচরণে সন্দেহ হয়। এরপর তিনি গোপনে ওই এলাকায় অনুসন্ধান করে ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে মামলার বাদীর দীর্ঘ দিনের বিরোধের বিষয়টি জানতে পারেন।’

পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তদন্ত শেষে পিবিআই জেলার সদস্যগণ দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অভিযান পরিচালনা করে গত ১১ এপ্রিল চট্টগ্রাম শহরের কাপ্তাই ইপিজেড এলাকার একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কর্মরত অবস্থায় সেই তরুণীকে উদ্ধার করেন।’

পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ছিল গুম হওয়া তরুণীর  

এই মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মামলার বাদী নুর মোহাম্মদ বাবুল তার মেয়েকে অপহরণের পর হত্যা করা হতে পারে বলে বার বার পিবিআইকে চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু পিবিআই মামলা তদন্তকালেই নিশ্চিত হয়েছিলেন যে গুম হওয়া ওই তরুণীর সঙ্গে তার পরিবারের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। আর ওই তরুণীকে উদ্ধারের পরে বিষয়টি আরও ভালভাবে পরিষ্কার হয়েছে।

পিবিআই জানায়,  উদ্ধার করা ওই তরুণীকে স্থানীয় একটি এনজিও সংস্থার নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

মেয়ের প্রেমিককে ফাঁসাতে মেয়েকে অপহরণের নাটক 

মামলা সংশ্লিষ্ট পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার হওয়া ওই তরুণীর সঙ্গে মামলার এক নম্বর আসামি আলাউদ্দিনের দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ওই তরুণীর বাবা আলাউদ্দিনের সঙ্গে তার মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি ছিল না। এই নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সে কারণে ওই তরুণীর বাবা তার প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজ মেয়েকে অপহরণের মিথ্যা নাটক সাজিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি।

পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ্-আল্-মামুন দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে বলেন, ‘আমরা এই মামলাটির খুব দ্রুত চার্জশিট প্রদান করবো’।

ad