ad

কক্সবাজারে পুলিশের চাকরিতে এবার রোহিঙ্গা!

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন ::
বাংলাদেশ পুলিশ কনস্টেবল পদে কক্সবাজার থেকে এবার নিয়োগ পেয়েছে একজন রোহিঙ্গা। প্রত্যেকে ১০৩ টাকা খরচ করে গত ১ জুলাই কক্সবাজার জেলায় ৩৮৬ জন ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ পায়।

পুলিশ লাইন্স মাঠে নিয়োগ কমিটির প্রধান ও কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম এ ফলাফল ঘোষনা করেন। এদের মধ্যে নিয়োগ পান রোহিঙ্গা বংশোদ্ভূত কনস্টেবল মো. রিদুয়ান।

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড পুর্ব সাতঘরিয়াপাড়ায় বসবাসরত মিয়ানমার নাগরিক জনৈক ছাবের আহম্মদের ছেলে তিনি। ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এনিয়ে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পশ্চিম সাতঘরিয়াপাড়া মধ্যম হ্নীলা এলাকার নুরুল কবির নামের একব্যক্তি ওই রোহিঙ্গা রিদুয়ানের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন। গত ১৮ আগস্ট লিখিত আপত্তি সুত্রে এতথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, বাংলাদেশ সরকারের পুলিশ বিভাগকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ।

উক্ত সিদ্ধান্তের আলোকে চলতি বছরের মে মাসে কক্সবাজার জেলা পুলিশে কনস্টেবল পদে লোক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়।

কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গত ২৭ জুন ৭৫০ জন কনষ্টেবল পদে ১০৩ টাকা খরচ করে চাকুরী প্রত্যাশীরা কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজ ও সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে লিখিত পরীক্ষা দিয়েছিল।

লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর একই স্থানে সোমবার সকাল ১১ টা থেকে মৌখিক পরীক্ষায় ৩৮৬ জন ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগের জন্য চুড়ান্ত ভাবে মনোনীত হয়।

মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন হচ্ছে টেকনাফ থানাধীন মধ্যম হ্নীলা হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৭ নাম্বার ওয়ার্ডের পূর্ব সাতঘরিয়া পাড়ায় বসবাসরত মিয়ানমারের নাগরিক সাবের আহমেদের ছেলে মোঃ রিদুয়ান।

লিখিত অভিযোগে আরো জানা যায়, সাবের আহমেদ ১৯৯২ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে হোয়াইক্যং ইউনিয়নে বসবাস শুরু করেন।

পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে সরকারের ভোটার তালিকায় বিভিন্ন অপকৌশলের মাধ্যমে নাম অন্তর্ভুক্ত করে ( যাহার ভোটার নাম্বার- ৫৬১০৫০৬০৩০৭১০১১৬ এবং ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় জাতীয় পরিচয় পত্র প্রণয়নকালে সাবের আহমেদ বিভিন্ন কৌশলে জাতীয় পরিচয় পত্রে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করে (যাহার আইডি নাম্বার- ২২১৯০৭৯৫৯৭০৫৮)।

আরো জানা যায়, যাহা পরবর্তীতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তদন্তে সাবের আহমেদ মিয়ানমারের নাগরিক তাহা সত্য প্রমাণিত হয়। এরপর এই সাবের আহম্মদ মধ্যপ্রাচ্যে পালিয়ে গেছে ।

লিখিত আপত্তিতে দাবী করা হয়, যেখানে আমার দেশের ছেলে মেয়েরা একটি সরকারি চাকরির জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু অনেকেই সরকারি চাকরি পাচ্ছে আবার অনেকে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সরকারি চাকরি পাচ্ছে না।

সেখানে একজন মিয়ানমারের নাগরিকের ছেলে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাহিনীতে চাকরি পাবে তা দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও হুমকি স্বরূপ।

রোহিঙ্গা যুবক মো. রিদুয়ানের বিরুদ্ধে তদন্ত পুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও দাবী জানানো হয়। লিখিত আপত্তিটি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সহ সরকারী বিভিন্ন দপ্তরেও অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

এব্যাপারে মো. রিদুয়ানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য বার বার চেস্টা করেও পাওয়া যায়।

ad