কক্সবাজারে করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ইউএনএইচসিআর’র সহায়তা প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক::
আজ জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং বাংলাদেশ সরকার কক্সবাজারের অসহায় বাংলাদেশী পরিবার সমূহের জন্য আর্থিক সহায়তা মূলক কার্যক্রম উদ্বোধন করেছে।
উখিয়া এবং টেকনাফ উপজেলার ৩৫,৮৮৭ টিরও বেশী পরিবারকে কোভিড-১৯ কার্যক্রমের আওতায় মাসিক অথবা এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
এই কার্যক্রমের আওতায় ১৬,৮৮৭ টি পরিবার বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ডাকঘর থেকে সহায়তা গ্রহণ করছে। ২০২০ সালের শুরু’র দিকে, আর্থ-সামাজিক সূচকের সমন্বয়ে পরিচালিত চাহিদা নিরূপণ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় আরও ১৯,০০০ টি পরিবার ‘মোবাইল-মানি’র’ মাধ্যমে জরুরী নগদ অর্থ সহায়তার জন্য নির্বাচিত হয়েছে। ৫,৬০০ টিরও বেশী পরিবার ইতোমধ্যে তাঁদের প্রথম দফার অর্থ গ্রহণ করেছেন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ কামাল হোসাইন আজকের অনলাইন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, “আমি আশা করি যে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে যারা স্ত্যিকার অর্থেই অসহায়, এই সহযোগিতা তাদের কাছে পৌঁছে যাবে। কক্সবাজারে আরও অনেক অসহায় মানুষ আছেন। আমি আশা করি যে আমরা একসাথে কাজ করলে তাঁদের সবাইকে সহায়তা প্রদান করতে পারবো। রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য এই বিপুল পরিমাণ সহায়তার জন্য আমি ইউএনএইচসিআর এবং এর অংশীদারগণকে ধন্যবাদ জানাতে চাই”।
মর্যাদা এবং সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে ইউএনএইচসিআর শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা প্রদান করতে চায় এবং শরণার্থী ও বাংলাদেশী স্থানীয় জনগণের মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি ও যোগাযোগ বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে চায়।
সরাসরি সংযোগ এবং কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ রোধে, এই আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমটি আংশিকভাবে ‘মোবাইল-মানি’, ‘বিকাশ’ এবং ন’গদ’ ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে যেখানে ইউএনএইচসিআর এর অংশীদারগণ যেমন, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, ব্র্যাক, সি এন আর এস, মুক্তি এবং ওয়ার্ল্ড ভীষণ অংশগ্রহণ করছেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে, ইউএনএইচসিআর-কক্সবাজার এর হেড অব অপারেশন জনাব মারিন ডিন কাজদোমকাজ বলেন, “বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী ক্যাম্পের আশ্রয়দাতা হিসেবে বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বের দরবারে মানবতা এবং সহানুভুতিশীলতার এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। কোভিড-১৯ অতি-মারীর প্রভাবে যখন সারা বিশ্বে আর্থ-সামাজিক সঙ্কট চলছে তখন কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকার নির্বাহের জন্য ইউএনএইচসিআর আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে”।
গত দুই বছর কাতার এর বিশ্বহৈতেষী জনাব শেখ থানি বিন আব্দুল্লাহ বিন থানি আল থানি ইউএনএইচসিআর কে ৪৩ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছেন। এই অনুদানের একটি বড় অংশ কক্সবাজারে আশ্রিত শরণার্থী এবং স্থানী জনগোষ্ঠীর টেকসই এবং মর্যাদা সম্পন্ন জীবন গড়তে আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যয় করা হচ্ছে।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন