কক্সবাজারে এক নারীকে নিয়ে যত রহস্য!

Picture1আবদুল আলিম নোবেল , কক্সবাজার :
কক্সবাজার সদর মডেল থানা হেফাজতে থাকা মিনি ট্রাকের মালিক দাবীদার কে এই ফিরোজা! তাকে নিয়ে গোলক ধাঁধাঁয় পড়েছে পুলিশ। তবে তিনি ট্রাকটির কোন মালিক নন এ অনেকটা নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।রোববার বিআরটিএতে মালিকানা কাগজপত্র পরীক্ষা নিরীক্ষা করার কথা জানিয়েছেন সদর মডেল থানার অপারেশন অফিসার আব্দু রহিম।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরের বিয়াম স্কুলের সামনে থেকে মিনি ট্রাকটি পুলিশের হাতে আটক হয়। এর আগে মাদকের চালান নিয়ে সমিতিপাড়ায় খালাস পরবর্তী রাতারাতি ট্রাকটির কালার বদলে ফেলে পালিয়ে আসছিল। গাড়ি আটকের পর থেকে নানা পেশার কিছু লোকজন নিয়ে গাড়ি ছাড়িয়ে নিতে থানায় ঘুরঘুর করতে দেখা যায় এই নারীকে।
অভিযোগ উঠে, সংবাদপত্রে সচিত্র তথ্য নির্ভর সংবাদ প্রকাশের পর প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রতিবাদ ছাপিয়ে পুরোপুরি নিজেকে গাড়ি মালিক দাবী করে এখন নিজেই ফেঁসে যাচ্ছে। পুলিশই বলল ওই নারী গাড়িটির প্রকৃত মালিক নন।
দিন যতই যাচ্ছে এই নারীকে নিয়ে আরো বেশি রহস্যর বেড়াজাল তৈরি হচ্ছে। কখনো নারী নেত্রি, আবার কখনো বীমাকর্মী দাবিদার এমন কোন খুঁটির জোরে গাড়ি মালিক না হয়েও মালিক পরিচয়ে থানা কম্পাউন্ডে ঘুরে বেড়ান। গাড়ি আটককালিন সময় মালিক দাবি করা হয়েছিল টেকনাফ পৌরসভার ইসলামাবাদ পুরান পল্লানপাড়ায় জনৈক হেলাল। একদিনের ব্যবধানে মালিক বনে গেলো এই ফিরোজা। গাড়ি আটককালিন সময় সেই ফিরোজা কেনই বা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গিয়েছিল তাও প্রশ্মবিদ্ধ করছে।
ওই নারী শুধু এই মিনি ট্রাক নয়, একটি প্রাইভেট কারেরও কথিত মালিক সাজায় তার আয়ের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। গাড়িতে ট্রাষ্ট লাইফ ইন্সুরেন্স লেখা কার গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ালেও কক্সবাজার শহরে এধরনের কোন ইন্সসুরেন্স কোম্পানীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কি তার পেশা, কি তার ব্যবসা এসব প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।
পুলিশের নাকের ডগায় তার এমন আচরণের পুলিশকেও নানা প্রশ্নের মুখে ফেলছে বলে জানিয়েছেন একাধিক সুত্র ।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, ফিরোজা নামের এই নারী টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালীপাড়ার বাসিন্ধা । সে বর্তমানে শহরের টেকপাড়ায় একটি ভাড়া বাসা নিয়ে থাকে। কিছুক্ষণ নিজেকে এনজিও কর্মী আর কিছু কিছু ক্ষেত্রে দাবী করে বীমা কর্মীও। দুই সন্তানের এই জননী কক্সবাজার শহরের বসবাস করছে ৮/১০ বছর ধরে। একে আজাদ নামের এক ব্যক্তিকে স্বামী দাবী করলেও তার সাথে কোন সর্ম্পক নেয় বলে জানান খোদ একে আজাদ। স্বামী পরিত্যক্তা এই নারীর চলাচল ও গতিবিধি অনেকটা রহস্যের চোখে দেখছেন শহরের প্রতিবেশিরা। দৃশ্যমান কোন পেশায় কর্মরত না থাকলেও গাড়ি, ফ্ল্যাট বাসা নিয়ে শহরে স্থায়ী ভাবে অবস্থান করছেন।
খবর নিয়ে আরও জানা গেছে, মাত্র কয়েক বছর আগে নুন আনতে যার পান্তা ফুরার অবস্থা ছিল যার, সে আজ প্রাইভেট কার নিয়ে চলাফেরা ও ট্রাকের মালিক দাবীদার!
সচেতন মহলের দাবী, এই রহস্যঘেরা নারীর আয়ের উৎস ও হঠাৎ করে বিলাশ বহুল গাড়ির মালিক বনে যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক। তাকে নিয়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত করলে অনেক অজানা তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন টেকনাফ কায়ুকখালী এলাকার বাসিন্দারা।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার অপারেশন অফিসার (এসআই) আব্দুর রহিম জানান, আজ ( শনিবার রাত ৮টা) পর্যন্ত রং বদলানো এই গাড়ির কোন মালিক বের হয়নি। ফিরোজা নামে এক নারী মিনি ট্রাকটির মালিক দাবী করলেও এখন আসল মালিক পাওয়া যায়নি। রোববার বিআরটিএ অফিসে সঠিক মালিকানার কাগজপত্র নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে।
এদিকে শনিবার বিভিন্ন পত্রিকায় ও অনলাইনে প্রতিবেদনের সাথে জড়িত সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা প্রতিবাদ ছাপিয়ে আরো প্রমান করলো কত রহস্যময় এই নারী।