কক্সবাজারের মমিনুলের সেঞ্চুরি

ডেস্ক রিপোর্ট ::
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের সঙ্গে মমিনুল হকের সখ্যতাই যে এমন! এই মাঠেই ক্রিকেট বিশ্বে নিজেকে প্রথম চেনান মমিনুল। এই মাঠেই প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। এই মাঠেই টেস্টে নিজের সর্বোচ্চ রান। এই মাঠেই টেস্ট ম্যাচের উভয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করা প্রথম এবং একমাত্র বাংলাদেশি। এই মাঠে টেস্টে সবচেয়ে বেশি রান গড়। এই মাঠেই সেঞ্চুরি দিয়ে ফর্মে ফেরা। এই মাঠে টানা তিন ইনিংসে তিন সেঞ্চুরি!

আরো কত কি যে চট্টগ্রামের এই মাঠ দিয়েছে মমিনুল হককে! ক্যারিয়ারের ৩২ টেস্ট ম্যাচের ৮টি খেলেছেন এই মাঠে। তাতেই সেঞ্চুরি ৬ টি। একটু মনে করিয়ে দেই মমিনুলের ক্যারিয়ারের সবমিলিয়ে সেঞ্চুরির সংখ্যা ৮ টি। অবসর নেয়া এখনো অনেক দুরে; তবে টেস্ট ক্রিকেটকে মমিনুল যেদিন গুডবাই জানাবেন, সেদিন এই মাঠের এক টুকরো অংশ সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন!

এই মাঠ যে তাকে দিয়েছে দু’হাত উজাড় করে! এই উদারতার কারণ খুঁজছেন আপনি? আরে ভাই, এটা যে তার ঘরেরই মাঠ। কক্সবাজারে নিজের বাড়ি থেকে এই মাঠে আসতে যে ঘণ্টা কয়েক সময় লাগে মাত্র!

বিকেএসপির ছাত্র মমিনুল হকের টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিলো ২০১৩ সালে মার্চে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে সেই টেস্টে মমিনুলের যাত্রা হয়েছিলো ৫৫ রানের হাফসেঞ্চুরি দিয়ে। তবে তার সেই অভিষেক ডেকে যায় মুশফিকের ডাবল সেঞ্চুরি ও মোহাম্মদ আশরাফুলের ১৯০ রানের ইনিংসের ছায়ায়। কলম্বোতে পরের টেস্টের প্রথম ইনিংসেও হাফসেঞ্চুরিতে হাসে তার ব্যাট। সেই বছরই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারাতে খেলেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট। তবে মমিনুলকে সত্যিকার অর্থে টেস্ট ক্রিকেট চিনলো সেই বছরের অক্টোবরে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে খেললেন ১৮১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। পুরোটা সময় জুড়ে যে দাপুটে ভঙ্গিতে ব্যাট করে গেলেন মমিনুল, তাতেই মুগ্ধ ক্রিকেট বিশ্ব। ক্যারিয়ারের সেই প্রথম সেঞ্চুরিই জানান দিলো-টেস্ট ক্রিকেটে টিকে থাকার জন্যই এসেছেন এই ব্যাটসম্যান। বয়স, উচ্চতা, স্বল্পভাষী ও শিশুসুলভ মুখায়বের মমিনুল হকের নামের পাশে যোগ হলো ভালবাসার উপাধি-লিটল জিনিয়াস!

ad

চট্টগ্রাম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যখন ব্যাট হাতে নামলেন তখন বাংলাদেশের অবস্থা খুব সুখের কিছু নেই। খেমার রোচের বলে শূন্য রানে আউট হয়ে ফিরে গেছেন সৌম্য সরকার। দলের স্কোর তখন মাত্র ১। প্রথমে ইমরুলের সঙ্গে জুটি বেঁধে সেই সঙ্কট কাটিয়ে উঠলেন। লাঞ্চের আগেই নিজের হাফসেঞ্চুরি পুরো করলেন। লাঞ্চের পর মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে তৃতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করলেন ৪৪ রান। খানিকবাদে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে পুরো করলেন নিজের সেঞ্চুরি। টেস্টে এটি তার অষ্টম সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি আটটি টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক ছিলেন তামিম ইকবাল। চট্টগ্রামে সর্বশেষ এই সেঞ্চুরির সুবাদে তামিমের সেই রেকর্ড স্পর্শ করে ফেললেন মমিনুল হক।

মাত্র ৬৯ বলে হাফসেঞ্চুরি পুরো করেন। আর লাঞ্চের পর সেঞ্চুরি পুরো করতে খেললেন ১৩৫ বল। ৯ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় সেঞ্চুরি পুরো হয় তার। নম্বইয়ের ঘরে দাড়িয়েও যে ছক্কা হাঁকানো যায় সেই দুরন্ত সাহসও দেখালো মমিনুলের ব্যাট। ৯২ রান থেকে ৯৮ রানে পৌছালেন দেবেন্দ্র বিশুকে মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে। পরের ওভারেই খেমার রোচের বলে বাউন্ডারি তুলে নিয়ে সেঞ্চুরির উল্লাসে মেতে উঠলেন লিটল জিনিয়াস!

এমন ব্যাটসম্যানকেই বাংলাদেশের সাবেক কোচ চন্দিকা হাতুড়েসিংহে ‘ব্যাটসম্যানই’ মনে করতেন না! হাতুড়েসিংহে এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাবেক। আর মমিনুল হক বাংলাদেশের বর্তমান এবং ভবিষৎ দুটোই!