ওসমান মেম্বার গ্রেফতারে দক্ষিণ মিঠাছড়িতে মিষ্টি বিতরণ

 দিদারুল আলম জিসান, কক্সবাজার::

কক্সবাজার সদর উপজেলা পিএমখালীর সাবেক চেয়ারম্যান শহীদ উল্লাহের বাড়ি থেকে চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৈদ্যালি করতে গিয়ে আটক হল ৩ ব্যাক্তি। ১৪মে সন্ধ্য ৬টার সময় কক্সবাজার সদর থানার এসআই আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে তাদেরকে আটক করা হয়। আটকৃতরা হলো রামু নারকেল বাগান এলাকার মৃত মো: হোসেনের পুত্র জুবায়ের প্রকাশ ভূয়া বৈদ্য জুবায়ের, রামু ওমখালী এলাকার মফিজুর রহমানের পুত্র আব্দুল মালেক, তার ভাই স্থানীয় সাবেক প্রতারক ওসমান গনি মেম্বার বলে জানাগেছে। যিনি মাটিতে লুকিয়া থাকা গুপ্তধন উত্তোলন করে দিবে বলে শত শত মানুষ থেকে প্রতারণা করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ তার সাথে প্রতিনিয়ত উপরে উল্লেখিত একজন ভূয়া বৈদ্য রয়েছে। তাকে ব্যবহার করে প্রতারক ওসমান মেম্বার সাধারন জনগণের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে  নিচ্ছে। ওই সময় পুলিশ তাদের ব্যবহারিত একটি পুরাতন পাজারো জীপ ও ৫৪ হাজার টাকার নগদ উদ্ধার করেন।
বিশেষ সূত্রে জানা যায় কিছুদিন আগে দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকার মাজেদ আলীর পুত্র আবদুল্লাহকে ওসমান মেস্বার ফোন করে বলে তার বসতভিটায় নাকি গুপ্তধনের আবাস পেয়েছে। গুপ্তধনের নাম শুনে আব্দুল্লাহর মনে লোভ হয়। সে ওসমান মেম্বারকে গোপনে তার বাড়িতে আসতে বলেন। উপরে উল্লেখিত ভূয়া বৈদ্য জুবায়ের ও প্রতারক মেম্বার রাতে আব্দুল্লাহর বাড়িতে আসে এবং গুপ্তধনের ব্যাপারে বিশেষ আলাপ-আলোচনা করে।এক পর্যায়ে ওসমান মেম্বার মাটিতে লুকিয়ে থাকা গুপ্তধন উত্তোলন করে দিলে আব্দুল্লাহর কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে। আব্দুল্লাহ সাধারন গরিব লোক হওয়ায় ১০ লক্ষ টাকা দিতে অস্বিকার করে। আব্দুল্লাহ গুপ্তধনের লোভ সামলাতে না পেরে ভূয়া বৈদ্য ও প্রতারক ওসমানকে স্ত্রীর স্বর্ণ বিক্রি ও জমি বন্ধক করে প্রতারক ওসমানকে ২ লক্ষ টাকা দিয়ে দেন। টাকা দেওয়ার পরে কখন গুপ্তধন তোলবে সে ব্যাপারে সামান্য আশ্বাস দিয়ে ওসমান মেম্বার গা ঢাকা দেন। গুপ্তধন কখন তুলবে সে ব্যাপারে ওসমান মেম্বার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে এক সপ্তাহ সময় দেন, সময় পার হওয়ার পর আবার এক মাসের সময় দেন। এক পর্যায়ে কয়েক মাস চলে যাওয়ার পর ওসমানের প্রতারনা টের পেয়ে গুপ্তধন বা তার টাকা দাবি করলে ওসমান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মামলার হুমকি দেন। এক পর্যায়ে ২ লক্ষ আত্মসাদ করার জন্য আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা জিআর মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং- জিআর ২২৭/২০১৫। যে মামলার কোন ধরনের সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অহেতুকভাবে প্রতারক ওসমান টাকা চাওয়ার অসহায় নিরীহ আব্দুল্লাহকে দিনের পর দিন হয়রানির চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিন মিঠাছড়ির আবু তাহের নামক একজন জানান প্রতারক ওসমান গুপ্তধন তোলে দিবে বলে ভূয়া বৈদ্যের মাধ্যমে সাধারন মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্চে। আমরা তার উপযুক্ত শাস্তি দাবি জানাই। দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকার শফিউল আলম জানান ওসমান মেম্বার একজন প্রতারক। তার কাছ হচ্ছে গুপ্তধনের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাদ করা। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জন্য এলাকাবাসী জোর দাবি জানায়। আরো জানাযায়, স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান শহীদ উল্লাহের পাশের এক বাড়িতে টাকা ও মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহীদ উল্লাহের নেতৃত্বে এই বদ্য সিন্ডিকেটকে নিয়ে আসেন তার বাড়িতে। পরে বদ্য ন্থানীয় এমদাদ উল্লাহ নামে এক সিএনজি চালককে ডেকে নিয়ে বিশেষ ধরণের ওষুধ খাওয়ান। সাথে সাথে ওই সিএনজি চালক অজ্ঞান হয়ে পড়ে। ঘটনার ১২ ঘটনার পরেও তার জ্ঞান ফিরেনি। এই ঘটনা দেখে এমদাদ উল্লাহের মা বৃদ্ধ নুরজাহান বেগম ও অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তারা দুই জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছে। এই ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার দাবী করছেন পূর্ব শ্রুতার জের ধরে চেয়ারম্যান শহীদ উল্লাহ সকল ঘটনা ঘটনা ঘটিয়েছে। এই প্রতারক সিন্ডিকেট প্রায় সময় এলাকায় এই ধরের ঘটনা করে থাকে বলে জানান স্থানীয়রা।এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ফরিদ উদ্দিন খন্দকার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মামলার বাদির সাথে কথা বলে ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন এবং অপরাধী যেই হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা বলে জানান তিনি।