এসএসসির পুনঃনিরীক্ষার ফল ৩১ মে

শিক্ষা ডেস্ক : চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পুনঃনিরীক্ষার ফল আগামী ৩১ মে দেশের সব বোর্ডের নিজেস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

ঢাকা শিক্ষাবোর্ড সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বোর্ড সূত্র জানায়, চার লাখ ১৪ হাজার ৫১৬টি ফল চ্যালেঞ্জ করে এবার পুনঃনিরীক্ষার আবেদন হয়েছে। আবেদনের শীর্ষে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড। বিষয়ভিত্তিক আবেদনের শীর্ষে গণিত ও ইংরেজি। এ দুটি বিষয়ে বেশি ফেল করায় এবার পাসের হার বিগত বছরের তুলনায় দুই দশমিক ৫৮ শতাংশ কমেছে।

ফল পুনঃনিরীক্ষার পর যাদের ফলে পরিবর্তন এসেছে শুধু তাদের ফল প্রকাশ করা হবে। বাকিদের ফল অপরিবর্তিত থাকবে।

গত ৬ মে প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। গত নয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম পাস করেছে এবার। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, এবার ১০টি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ২০ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৪ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০৪ জন। শতকরা পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৭। জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন।

বোর্ডের কর্মকর্তারা বলেন, পুনঃনিরীক্ষণে সাধারণত চারটি বিষয় দেখা হয়। এগুলো হলো, উত্তরপত্রে সব প্রশ্নের সঠিকভাবে নম্বর দেওয়া হয়েছে কিনা, প্রাপ্ত নম্বর গণনা ঠিক হয়েছে কিনা, প্রাপ্ত নম্বর এমআর শিটে উঠানো হয়েছে কিনা এবং প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী ওএমআর শিটে বৃত্ত ভরাট সঠিকভাবে করা হয়েছে কিনা। এসব বিষয় পরীক্ষা করেই পুনঃনিরীক্ষার ফল দেওয়া হয়।

বোর্ডের কর্মকর্তারা আরো বলেন, বোর্ডের প্রশ্ন পদ্ধতি ও খাতা দেখার নানা ত্রুটির কারণে দিন দিন ফল চ্যালেঞ্জ করার সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে এবার নতুন পদ্ধতিতে খাতা মূল্যায়ন এবং নম্বর দেখার সুযোগ পাওয়ায় এ সংখ্যা বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বোর্ডের ৬৩ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী এক লাখ ৪১ হাজার ৪০০ বিষয়ে ফল চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেছে। আবেদনের শীর্ষে রয়েছে গণিত ও ইংরেজি।

রাজশাহী বোর্ডে ২১ হাজার ১৭৬ শিক্ষার্থী ৪০ হাজার ৯৬৮টি বিষয়ে আবেদন করেছে। এর মধ্যে গণিতে সাত হাজার ২৬২ জন, ইংরেজি ১ম পত্রে তিন হাজার ২৪১ ও দ্বিতীয় পত্রে দুই হাজার ৮৬৪ জন।

দিনাজপুর বোর্ডে ১৭ হাজার ৮০৮ জন শিক্ষার্থী ৩৪ হাজার ৮৫৩টি বিষয়ে আবেদন করেছে। এ বোর্ডেও আবেদনের শীর্ষে গণিত। এ বিষয়ে আবেদনের সংখ্যা ছয় হাজার ২০৬টি। ইংরেজি ১ম পত্রে তিন হাজার ১৯৫ ও দ্বিতীয় পত্রে দুই হাজার ৯০৪ জন আবেদন করেছে।

কুমিল্লা বোর্ডে ১৬ হাজার ৮৩৭ জন ৩৬ হাজার ৭৮৪টি বিষয়ে আবেদন করেছে। এর মধ্যে গণিতে চার হাজার  ৯১১ জন। ইংরেজি ১ম পত্রে চার হাজার ৫৫২ জন ও দ্বিতীয় পত্রে তিন হাজার সাত জন। বরিশাল বোর্ডে ১৬ হাজার ৮৩৭ শিক্ষার্থী ২২ হাজার ১৫২ বিষয়ে আবেদন করেছে। এর মধ্যে গণিতে চার হাজার ৯১১ জন। ইংরেজি ১ম পত্রে চার হাজার ৫৫২ ও দ্বিতীয় পত্রে তিন হাজার সাতজন আবেদন করেছে।

চট্টগ্রাম বোর্ডে ২৩ হাজার ৩৮০ জন শিক্ষার্থী ৫৩ হাজার ৫৩০টি বিষয়ে আবেদন করেছে। এ বোর্ডে গণিতে সাত হাজার ৫৫ জন। ইংরেজি ১ম পত্রে পাঁচ হাজার ৭৮২ ও দ্বিতীয় পত্রে তিন হাজার ৬৫৪ জন আবেদন করেছে।

সিলেট বোর্ডে ১০ হাজার ৬৭৮ শিক্ষার্থী ২০ হাজার ৪৫৭টি আবেদন করেছে। এর মধ্যে গণিতে পাঁচ হাজার ৯৫ জন। ইংরেজিতে তিন হাজার ৫০৩ জন আবেদন করেছে।

যশোর বোর্ডে ১৯ হাজার ৪১১ শিক্ষার্থী ৩৮ হাজার ৫৩টি বিষয়ে আবেদন করেছে। এর মধ্যে গণিতে পাঁচ হাজার ৫৭৯ জন। ইংরেজি ১ম পত্রে চার হাজার দুজন ও দ্বিতীয় পত্রে তিন হাজার ৬৮০ জন।

মাদ্রাসা বোর্ডে ২১ হাজার ৭৫৬ শিক্ষার্থী ৩৫ হাজার ৮৮৯টি বিষয়ে আবেদন করেছে। এ বোর্ডেও ফল চ্যালেঞ্জের শীর্ষে গণিত। আবেদনের সংখ্যা ১১ হাজার ৭৯৩টি। ইংরেজিতে ১৮৪৭টি। গত বছর ফল চ্যালেঞ্জ করে দুই লাখ ৬৬ হাজার ৩৪০ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছিল।