এবার গণভোটের বাক্স নিয়ে ৬৪ জেলায় যাচ্ছেন হানিফ বাংলাদেশি

বিশেষ প্রতিবেদক ::
শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে এবার কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে হাঁটা কর্মসূচি শুরু করেছেন মোহাম্মদ হানিফ ওরফে হানিফ বাংলাদেশি। তিনি ৬৪ জেলা থেকে গণভোট সংগ্রহ করে সবশেষে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা পৌঁছাবেন। একই দাবিতে তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি দেবেন।

আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার জিরো পয়েন্ট থেকে কার্যক্রম শুরু করেন মোহাম্মদ হানিফ (৪০)। তাঁর মাথায় ছিল ভোটের বাক্স। এতে লেখা ‘নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ন ও কার্যকর গণতন্ত্রের দাবিতে প্রতীকী গণভোটে আপনিও মতামত দিন’। তাঁর মুখে বাংলাদেশের মানচিত্রসংবলিত মাস্ক। গলায় প্ল্যাকার্ড। এতে লেখা ‘নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ন ও কার্যকর গণতন্ত্রের দাবিতে ৬৪ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে স্মারকলিপি প্রদান’।

বেলা একটা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ এলাকায় বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে গণভোট সংগ্রহ করেন মোহাম্মদ হানিফ। পরে তিনি কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।
এর আগে বিভিন্ন ইস্যুতে মোহাম্মদ হানিফ দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। তাঁর এমন কার্যক্রমে বন্ধু-স্বজনেরা তাঁকে ‘হানিফ বাংলাদেশি’ বলে ডাকেন।

এই কর্মসূচি সম্পর্কে মোহাম্মদ হানিফ বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর ধরে যে দল যখনই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, সে দলই কমবেশি গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করেছে। আজকের যে পরিচিতি, তা এক দিনে তৈরি হয়নি। সব শাসকদলের অপরাজনীতি এই চরম অবস্থা সৃষ্টি করেছে। অবিশ্বাস ও আস্থার সংকটের কারণে কয়েকবার অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক দেশে অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারপদ্ধতি বেশি দিন চলতে পারে না। এখন জনগণের ভোটাধিকার ও নির্বিঘ্ন ভোট দেওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করতে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি সব মহলের সঙ্গে আলোচনা করে আইন প্রণয়ন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। সারা দেশে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সর্বস্তরের কর্মকর্তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলে জনগণের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহ সৃষ্টি হবে।

১৯৯৯ সালে নোয়াখালীর বুলুয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন মোহাম্মদ হানিফ। পরে তিনি লেখাপড়া ছেড়ে চট্টগ্রামের একটি প্রতিষ্ঠানে কমিশন এজেন্টের কাজ নেন।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন