রোহিঙ্গাদের হাতে ৫ লক্ষাধিক মোবাইল সীম

ফরিদুল আলম শাহীন, কক্সবাজার ::
এগার লাখ রোহিঙ্গা নাগরিকের হাতে ৫ লক্ষাধিক মোবাইল সীম রয়েছে বলে জানাগেছে। একটি বেসরকারী সংস্থার জরিপের প্রতিবেদন অনুযায়ী সদ্য মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ৭ লক্ষ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষদের হাতে পৌঁছে গেছে ৩ লক্ষেরও বেশি মোবাইল সীম কার্ড। পূর্ব থেকে অবস্থানরত অন্তত ৪ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নাগরিকের হাতে রয়েছে আরো প্রায় ২লক্ষ মোবাইল সীম কার্ড। সদ্য বিনামূল্যে বিতরণকৃত টেলিটক অপরাজিতা ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের হাতে হাতে বলে জানাগেছে। শুধু তাই নয় কক্সবাজার সহ সারাদেশের অন্তত ১শ ৮৫টি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বের অগ্রভাগে রয়েছে রোহিঙ্গা নাগরিক। এদের মধ্যে অধিকাংশই মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেরত বলে সূত্রে নিশ্চিত করেছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রোহিঙ্গা শিশুদের পাঠ দানে বহুমুখী প্রলোভনে উৎসাহিত করে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে রোহিঙ্গা বিদ্রোহী সংগঠন আলএকীন মুখপাত্র আতাউল্লাহ বিভিন্ন উগ্র ধর্মী উম্মাদনা জিহাদী মনোভাব এবং বিদ্রোহীর উস্কানিসহ বিতর্কিত বই,বুকলেট, পোষ্টার, লিপলেট ইত্যাদি এসব প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী, শিক্ষক বিভিন্ন মসজিদে দায়িত্বরত ইমাম,খতিব ও মোয়াজ্জিনদের তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা অধ্যূষিত এলাকাসহ বাঙ্গালি মুসলমানদের মধ্যে উগ্রসাম্প্রদায়িক বীজ বপন করে জেহাদের প্রস্তুতি চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে দেশের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পটিয়া আল জামেয়া ইসলামী মাদরাসা, জিরি মাদরাসা, হাটহাজারি মাদরাসা, সাতকানিয়ার রাজঘাটা মাদরাসা, কক্সাবাজারের পোকখালী মাদরাসা, জোয়ারিয়ানালা মাদরাসা, কক্সবাজার ইমাম মুসলিম মাদরাসা, কলাতলী আদর্শ শিক্ষা নিকেতন, ঝিলংজার দক্ষিণ মুহুরী পাড়ার আদর্শ শিক্ষা নিকেতন, রাজারকুলের একটি মাদরাসা এছাড়া নাইক্ষ্যংছড়ি, উখিয়া, টেকনাফে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ মাদরাসা পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন রোহিঙ্গা নাগরিক। তৎমধ্যে উল্লেখ্য যোগ্য হচ্ছে শহরের পাহাড়তলী এলাকায় বসবাসরত রোহিঙ্গা নাগরিক মাওলানা এমদাদ, কলাতলী আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের মাওলানা জাবের আহমদ, ইমাম মুসলিমের পরিচালক হাফেজ ছালাহুল ইসলাম, দক্ষিন মুহুরী পাড়ার আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের মুখ্য পরিচালক মাওলানা ছালামতুল্লাহ,তার সেকেন্ড ইন কমান্ড মাওলানা কামাল উদ্দিনসহ সহ¯্রাধিক রোহিঙ্গা আরবী শিক্ষাই শিক্ষিত এসব লোকজন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদরাসা পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সদ্য পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে এসব চিহ্নিত লোকজন দেশের প্রত্যন্তঞ্চলে তাদের মনোভাবপন্ন বা আদর্শে উজ্জীবিত অসংখ্য লোকজন মায়ানমার নাগরিকদের সাহায্যের নামে ধর্মীয় উম্মাদনা এবং জঙ্গি কর্মকান্ডে ইন্দন যোগাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয় বাংলাদেশের বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানীর সীম কার্ড এসব উল্লেখিত লোকজনের মাধ্যমে বিদ্রোহী সংগঠন আলএকীনের সদস্যদের কাছেও পৌঁছে দেয়া হয়ে বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে দাবী করেছে। তবে কীপরিমান সীম কার্ড বিদ্রোহীদের কাছে পৌঁছে গেছে তা পরিসংখ্যন জানাযায়নি। রোহিঙ্গা নাগরিকদের ধারা কক্সবাজারসহ সারাদেশের পরিচালিত ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিশেষ করে মসজিদ, মাদরাসার বর্তমানে বেহালদশা। কারণ সদ্যপালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নাগরিকেরা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের পূর্বে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখাসহ আচারনানুষ্ঠাদি পাঠদান কার্যক্রমে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যে সরব উপস্থিতি ছিল এখন ক্ষোভ একটা চোখে পড়েনা। নির্ভরযোগ্যের সূত্রের দাবী ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী যুবকেরা জঙ্গি সংগঠনের কাতারে নিজেদের নাম লিপিবদ্ধ করে নানা কৌশলে অস্ত্র পরিচালনাসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষনে ব্যস্ত রয়েছে। অপরদিকে ৩০ থেকে ৫০ উর্ধ্বে আরবী শিক্ষাই শিক্ষিত বিভিন্ন লোকজন বিদেশী থেকে রোহিঙ্গাদের নাম ভাঙ্গিয়ে সাহার্য্য সহযোগিতা এনে এর সিংহভাগ আখের ঘোছানের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এবং অনেকেই ভাগের বৈপ্লবিক পরিবর্তনও ঘটেছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ লোকজনের হাতে রয়েছে বাংলাদেশের ভোটার আইডি কার্ড, পাসপোর্ট ও বিদেশ গমনের ভিসা, কেউ যাচ্ছে আর কেউ আসচ্ছে রোহিঙ্গাদের জন্য নিয়ে আসা পূনঃবাসনের ত্রাণসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে চলছে হরিলুটের কারবার। কারণ কক্সবাজার শহরসহ পাশ্ববর্তী এলাকায় রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্য আসা ত্রাণ সামগ্রী চাল, ডাল, তেল, মরিন, পেয়াজ, আদা, রসুন, সাবান, এবং প্রসাধনী সামগ্রী বাজার ধরের চাইতে অর্ধেকেরও কমমূল্যে পাওয়া যাচ্ছে। আর এসব কাজ তদারকি বাজারজাত, বিপনন, পরিবেশন, ইত্যাদি কার্যক্রমে অগ্রভাগে রয়েছে ইতিপূর্বে অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গা নাগরিকেরা। এসব রোহিঙ্গা নাগরিক কক্সবাজারসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে যারা শিকড় ঘেড়ে বসেছে তারা আবার রোহিঙ্গা অধ্যূষিত শরণার্থী ক্যাম্পে ও সদ্য পালিয়ে আসা মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নাবাগত রোািহঙ্গা বলে নিজেদেরকে অন্ততভূক্ত করে নিয়েছে। ফলে এসব রোহিঙ্গাদের নানা অপরাধ, অপকর্ম দেশদ্রোহী তৎপরতা ও অরাজকতা সৃষ্টি, নাশকতা, তৈরীরমত জঘন্য কর্মকান্ডেও ভবিষ্যতে জড়িত হয়ে বাংলাদেশের জন্য মারাত্মত হুমকি হয়ে দাড়াতে পারে বলে আশংকা ব্যক্ত করেছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।