ad

এখন অনলাইনেই নাম-বয়স সংশোধন

শিক্ষার্থীদের সনদ ও মার্কশিটে নাম-বয়সসহ বিভিন্ন ভুল সংশোধনে আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে চালু করেছে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড। নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে অনলাইনে এ আবেদন প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। একই সাথে ১ জানুয়ারি থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ম্যানুয়ালি আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া। অর্থাৎ নাম ও বয়স সংশোধনে ১ জানুয়ারি থেকে ম্যানুয়ালি বা সরাসরি আর কোনো আবেদন গ্রহণ করছে না শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ। এ তথ্য নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম আজাদীকে বলেন, নাম-বয়স সংশোধনে আবেদন প্রক্রিয়া আমরা অনলাইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই এ প্রক্রিয়া চালু করেছি। অনলাইন প্রক্রিয়া চালুর ফলে নাম-বয়স সংশোধনে আবেদন করার জন্য সেবাগ্রহীতাদের আগের মতো আর বোর্ডে হাজির হতে হবে না। যেকোনো প্রান্ত থেকে অনলাইনে এ আবেদন করা যাবে। এর মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা যায়, পাবলিক (জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি) পরীক্ষার সনদ ও মার্কশিটে নাম-বয়সসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য প্রতি মাসে ৫ শতাধিক আবেদন জমা পড়ে বোর্ডে। এসব সংশোধনী অনুমোদনের জন্য মাসে অন্তত একবার করে
সভা আহ্বান করতে হয় বোর্ডকে। এ হিসেবে বছরে বিভিন্ন ভুল সংশোধনের প্রায় ৬ হাজার আবেদন জমা পড়ে। ভুল সংশোধনের প্রক্রিয়ায় আবেদন জমা দেওয়া, ফি জমা করা, কমিটির সভায় উপস্থিত হওয়া এবং শুদ্ধ সনদ বা মার্কশিট উত্তোলনসহ অন্তত ৪/৫ বার করে স্বশরীরে বোর্ডে আসতে হয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
এখন আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে চালু করায় ঘরে বসেই আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা। পাশাপাশি ফি পরিশোধের প্রক্রিয়াও রাখা হয়েছে অনলাইনে/মোবাইল ব্যাংকিংয়ে। আবেদন ও ফি প্রদানের জন্য সেবাগ্রহীতাদের এখন আর বোর্ডে আসার প্রয়োজন নেই। কেবল সংশোধিত সনদ বা মার্কশিটটি উত্তোলনের সময় বোর্ডে আসতে হবে।
এ তথ্য নিশ্চিত করে শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রফেসর মো. শওকত আলম বলেন, আগে আবেদনের সাথে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ম্যানুয়ালি ফি জমা দিতে হতো আবেদনকারীকে। আর এ জন্য স্বশরীরে বোর্ডে আসতে হতো শিক্ষার্থীদের। অনলাইন প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় আবেদন ও ফি জমা করতে এখন আর বোর্ডে আসার প্রয়োজন নেই। সব ধরনের মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, ডাচবাংলা মোবাইল ব্যাংকিংসহ অন্যান্য) ও কার্ডের (ভিসা, মাস্টার, ক্রেডিট কার্ড) মাধ্যমে এ ফি পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। এতে করে সেবাগ্রহীতাদের ঝামেলা ও ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আবেদন যেভাবে : শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটে (www.bise-ctg.gov.bd) প্রবেশ করলে ই-সেবার অন্তর্ভুক্ত Name & Age Correction (নেইম অ্যান্ড এইজ কারেকশন) শিরোনামে একটি অপশন (সর্বশেষ অপশন) পাওয়া যাবে। সেখানে ক্লিক করলে নাম ও বয়স সংশোধনের দুটি অপশন দেখা যাবে। প্রয়োজনীয় অপশনটিতে ক্লিক করে পর্যায়ক্রমে পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন করে আবেদন করতে হবে আবেদনকারীকে। আর আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলো স্ক্যান করে ফাইলে এটাচ (সংযুক্ত) করতে হবে।
শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা যায়, নাম-বয়স সংশোধনের প্রক্রিয়াটি অনলাইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কর্পোট্রনিক ইনফো সিস্টেমস লিমিটেডের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয় বোর্ড কর্তৃপক্ষ। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে চুক্তির পর সেপ্টেম্বরে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ প্রাপ্তির পর এ সংক্রান্ত সফটওয়ার প্রস্তুতের কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।
সফটওয়্যারটি প্রস্তুতের কাজ শেষ করে কিছুদিন ট্রায়াল হিসেবে দেখা হয়। সন্তোষজনক ফলাফলের পর ১ জানুয়ারি থেকে সেটি পুরোদমে চালু করা হয়েছে। চালুর পর এখন টুকটাক কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেলেও দ্রুত সেগুলো সমাধান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্পোট্রনিক ইনফো সিস্টেমস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরুল ইসলাম চৌধুরী ইমন।
শিক্ষাবোর্ডের অনেক কার্যক্রম ইতোমধ্যে অনলাইনের আওতায় আনা হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম বলেন, যেকোনো কার্যক্রম ডিজিটাইলাইজ করা হলে সেবাগ্রহীতারা সুবিধা ভোগ করে। ভোগান্তি কমে, সুফল পায়। নাম-বয়স সংশোধনের কার্যক্রমও এক ধরনের বৃহৎযজ্ঞ। মাসে ৫ শতাধিক আবেদন নিষ্পত্তি করতে হয় বোর্ডকে। এই আবেদন প্রক্রিয়ায় একাধিকবার শিক্ষার্থীদের বোর্ডে আসতে হয়। শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের ভোগান্তি লাঘবে এই আবেদন প্রক্রিয়াও আমরা ডিজিটালাইজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। এ সিদ্ধান্তের আলোকে নাম-বয়স সংশোধনের প্রক্রিয়াটি অনলাইনের আওতায় আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে।

ad