ad

এক যুগ পর কোপার শিরোপা ব্রাজিলের

অবশেষে অপেক্ষার প্রহর ফুরাল। সেই ২০০৭ সালে সবশেষ কোপা আমেরিকার ট্রফি নিয়ে আনন্দে মেতেছিল ব্রাজিল। ১২ বছর পর ফের লাতিন আমেরিকার ফুটবল শ্রেষ্টত্বের শিরোপাটা জিতল সাম্বা নৃত্যের দেশটি। ৪৪ বছর পর ফাইনালে উঠে আসা পেরুর স্বপ্ন ভেঙে ট্রফি স্বাগতিকদেরই।

রিও ডি জেনিরোর ঐতিহ্যবাহী মারকানা স্টেডিয়ামে রোববার রাতে কোপার ফাইনালে পেরুকে ৩-১ গোলে হারাল ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হয়ে গোল করেন এভারটন সুয়ারেস, গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও রিকার্লিসন।

এনিয়ে দুর্দান্ত দাপটে নবমবারের মতো শতবর্ষ পুরনো টুর্নামেন্ট কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতল ব্রাজিল।
১৯৩৯ সালের পর ১৯৭৫ সালে শেষবার ট্রফি জিতেছিল পেরু। এবার উরুগুয়ের স্বপ্ন ভেঙে চমক দেখিয়েছিল তারা। এরপর সেমি-ফাইনালে হারায় চ্যাম্পিয়ন চিলিকে। কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা ফাইনালেও ধরে রাখতে পারল না তারা। নেইমারবিহীন ব্রাজিল ঠিকই বাজিমাত করল। তিতের শিষ্যদের হাতেই শিরোপা। এবার গ্রুপ পর্বে এই দলটিকেই ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল স্বাগতিকরা।

খেলার ১৫তম মিনিটেই এগিয়ে যায় পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। সতীর্থ গাব্রিয়েল জেসুস ভাসানো ক্রসে বল পেয়ে ভুল করেন নি এভারটন। বল পাঠিয়ে দেন পেরুর জালে। এটি এবারের কোপায় তার তিন নম্বর গোল। এরপর অবশ্য ফিলিপে কোতিনহো আর রবার্তো ফিরমিনো মিস করে হতাশা পুঁড়িয়েছেন ভক্তদের।

এরমধ্যে খেলার ৪৪তম মিনিটে পাওলো গেররেরোর স্পট কিকে গোল তুলে নিয়ে খেলায় ফেরে পেরু। মনে হচ্ছিল ম্যাচ বুঝি জমেই যাচ্ছে। ডি-বক্সে বল ডিয়াগো সিলভার হাতে লাগতেই পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। এরপর ভিএআর প্রযুক্তি দেখে সেই সিদ্ধান্তেই অটল থাকেন রেফারি। স্পট কিকে গোল করতে ভুল করেন নি পাওলো (১-১)।

তবে এরপরই ফের এগিয়ে যায় ব্রাজিল। প্রথমার্ধেই ইনজুরি সময়ে নিশানা খুঁজে নেন জেসুস। এবারের কোপায় এটি তার দ্বিতীয় গোল।

কিন্তু এগিয়ে থাকা ব্রাজিল খেলার ৭০তম মিনিটে এসে চুপসে যায়। পেরুর ডিফেন্ডার কার্লোস সামব্রানোকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন জেসুস। মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। দশজনের দল হয়ে যায় স্বাগতিকরা।

যদিও এই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেনি পেরু। তিতের দল পরিস্থিতি সামলে নিয়ে ধরে রাখে দাপট! খেলার শেষ মিনিটে আরেকটি গোল তুলে নেয় ব্রাজিল। পেরুর ডি বক্সে এভারটন ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পেয়ে যায় স্বাগতিকরা। তারপর স্পটকিক গোল করতে ভুল করলেন না ফিরমিনোর বদলি হিসেবে নামা রিকার্লিসন (৩-১)।

শেষ বাঁশি বাজতেই উত্তাল হয়ে উঠে মারকানার হলুদ গ্যালারি। তারা যে এখন লাতিন আমেরিকার ফুটবলের রাজা! স্বাগতিক হিসেবে এনিয়ে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হলো ব্রাজিল।

এরই পথ ধরে প্রতীক্ষার অবসান হয় ব্রাজিলের। ২০১৩ সালে ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ জয়ের পর ফের ধরা দিল বড় কোন ট্রফি! নেইমারের মতো বড় তারকাকে ছাড়াই খেলতে নেমে মিলল কোপার শিরোপা!

এর আগে শনিবার রাতে কোপায় চিলিকে ২-১ গোলে হারিয়ে তৃতীয় হয় আর্জেন্টিনা। যদিও ম্যাচের রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেন খোদ দলটির অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার দাবি ব্রাজিলকে শিরোপা জেতাতেই দুর্নীতি করছেন কোপা আমেরিকার আয়োজকরা!

ad