এক ম্যাচ খেলেই ৪৫ লাখ ডলার পেতেন মেসি!

ডেস্ক রিপোর্ট::
টাকা বড় না, আত্মসম্মান বড়? টাকা নয়, আত্মসম্মানকেই বড় করে দেখলেন মেসিরা। তাই কাড়ি কাড়ি টাকা প্রাপ্তির নিশ্চিত সুযোগ হাতছাড়া করে দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে দিয়ে ম্যাচটা বাতিলই করালেন মেসি-মাচেরানোরা। পূর্ব ঘোষিত ইসরায়েলের বিপক্ষে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচটা খেলছে না আর্জেন্টিনা। মেসি-মাচেরানোদের চাপের মুখে ম্যাচটা বাতিল করে দিয়েছে আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশন।

আগামী ৯ জুন ইসরায়েলের বিপক্ষে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলার কথা ছিল আর্জেন্টিনার। ম্যাচটা হওয়ার কথা ছিল জেরুজালেমে। কিন্তু সূচি ঘোষণার পর থেকেই ম্যাচটা বাতিল করার দাবিতে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করে আসছিল ফিলিস্তিনের মানুষ। ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনিরা মেসিদের ছবি এবং জার্সি পুরিয়ে ফেলার হুমকিও দেয়। আর্জেন্টিনার সমর্থক এবং মানবাধিকার কর্মীরাও ফিলিস্তিনের মানুষের দাবির প্রতিই সমর্থন জানান।

তাদের কথা, জেরুজালেমে ম্যাচটা হলে প্রকারান্তরে ফিলিস্তিনের উপর ইসরায়েলে আগ্রাসনের প্রতিই মেসিদের সমর্থন জানানো হবে! স্রেফ টাকার লোভে মেসিরা ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতি সমর্থন জানাতে পারেন! মেসি-মাচেরানোরা তাই ম্যাচটি বাতিল করার জন্যই চাপ দেন দেশের ফুটবল কর্তাদের।

ম্যাচটা বাতিল হওয়ায় মোটা দাগের অর্থ প্রাপ্তি থেকেই বঞ্চিত হলেন মেসিরা। ম্যাচটা খেলানোর জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতিই দিয়েছিল ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। পুরো আর্জেন্টিনা দল ঠিক কত টাকা পেত কে জানে! এক মেসিই পেতেন ৪৫ লাখ ডলার! আর্জেন্টিনারই এক সাংবাদিক টুইট করেছেন, ম্যাচটা খেললে প্রতি মিনিটে মেসি পেতেন ৫০ হাজার ডলার। মানে পুরো ৯০ মিনিটে পেতেন ৪৫ লাখ ডলার।

আগাম কিস্তি হিসেবে এর মধ্যেই নাকি আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনকে ১ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিল ইসরায়েল। ম্যাচ শেষে আরও বড় অঙ্কের প্রাইজমানি দেওয়ার শর্ত ছিল। কিন্তু সেটা তো পাচ্ছেই না। উল্টো অগ্রিম পাওয়া ওই ১ মিলিয়ন ডলারই এখন ফেরত দিতে হচ্ছে।

ওই সাংবাদিকের টুইট মতে, ম্যাচটা বাতিল হওয়ায় আর্থিক দিক থেকে সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হলো মেসিরই। কিন্তু সেটা মেনে নিয়ে মেসিই ম্যাচটা বাতিলের জন্য বেশি চাপ প্রয়োগ করেছেন বলেই খবর।

জীবনে টাকা তো কতই কামিয়েছেন মেসি। কামাবেন সামনের দিনগুলোতেও। বিতর্কিত একটা ম্যাচ খেলে ৪৫ লাখ ডলার না হলে এমন কি আর হবে! একটা দেশের মানুষের অভিশাপ কামানোর চেয়ে টাকার লোভটা ছেড়ে দেওয়াই ভালো! তাই ম্যাচটা না খেলার সিদ্ধান্তই নিয়েছেন তারা।

ম্যাচটা খেললে পকেট ভরে উঠতে টাকায়। না খেলায় ভাগ্যে জুটেছে ফিলিস্তিনের হাজারো মানুষের আশির্বাদ। ম্যাচটা বাতিল করার সংবাদ শুনেই খুশিতে নেচে উঠেন ফিলিস্তিনিরা।