এক ঘণ্টার ডিসি স্কুলছাত্রী রিমি

ভোলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী তাসনিম আজিজ রিমিকে এক ঘণ্টার জন্য প্রতীকী জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এনসিটিএফ’র আয়োজনে বুধবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে ভোলা জেলা প্রশাসকের মো. তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী কাছ থেকে প্রতীকী দায়িত্ব গ্রহণ করেন এই শিক্ষার্থী।
আয়োজিত আলোচনা সভায় ভোলা জেলা প্রশাসকের মো: তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী তাঁর পাশের আসনে তাসনিম আজিজ রিমিকে পাশে বসিয়ে বেলা ১২.৩০ থেকে টা ১টা ৩০ মিনিট ১ ঘণ্টার জন্য প্রতীকী জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
প্রতীকী জেলা প্রশাসকের দ্বায়িত্ব নিয়ে তাসনিম আজিজ রিমি বলেন, ভোলা জেলাসহ সারাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতা নির্যাতনের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমি চাইবো আমার মতো হাজারো স্বপ্ন বুকে নিয়ে কোন কিশোরী কিংবা কোন শিশুকে ধর্ষণের শিকার হতে না হয়। ধর্ষণের শিকার হয়ে আর কোন মেয়ে আত্মহত্যা পথ বেছে না নেয়। রাষ্ট্র প্রতিটি নারী ও শিশুর সুরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তাই আমি আশাকরি ধর্ষিত কিশোরীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং ধর্ষকদের প্রকাশ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। একটি ধর্ষণমুক্ত, ইভটিজিংমুক্ত নারী ও শিশুবান্ধব ভোলা জেলা গড়ে তুলতে সকলকে এগিয়ে আশার আহ্বান জানান তিনি।
রিমি আরও বলেন, বর্তমানে ভোলা সহ সারাদেশে নারী ও কিশোরিরা অনলাইন সাইবার বুলিং এর সম্মুখীন হতে হয়। এর মাধ্যমে নারী ও কিশোরা চরম নিরাপত্তাহীনতার শিকার হচ্ছে। এখনো বাংলাদেশের অধিকাংশ কিশোরীরা জানে না ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সর্ম্পকে। তাই সর্বক্ষেত্রে শিশুদের নিরাপত্তা ও অনলাইন স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলেন।

এসময় জেলা প্রশাসক জেলা প্রশাসক তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশের সরকার প্রধান নারী, বিরোধীদলীয় নেত্রী নারী, জাতীয় সংসদের স্পিকারও এক জন নারী। সে ক্ষেত্রে প্রান্তিক গ্রাম অঞ্চলের নারী ও কিশোরীরা অনেক পিছিয়ে আছে। তাসনিম আজিজ রিমি ওই কিশোরীদের আইকন হিসেবে পরিচিত পাবে। তাকে দেখেই শিশু ও কিশোরী মুক্তমনা হিসেবে বেড়ে উঠবে। এবং দেশের সর্বোচ্চ পদগুলো অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেওয়া সাহস যোগাবে। নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি সকলকে সাইবার বুলিং থেকে সর্তক থাকার আহবান জানান ।
এই কর্মসূচির ফলে একজন কিশোরী, মেয়েশিশু অথবা যুব নারীকে নেতৃত্ব প্রদানকারী ভূমিকা পালন করতে সহায়তা করা হয়; যাতে তার আত্মবিশ্বাস বাড়ে। নিজের স্বপ্ন পূরণে সে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। মেয়েশিশুরা সমান সুযোগ ও সমান অধিকার পেলে বদলে দিতে পারে তাদের জীবন, তাদের আশপাশের সমাজ ও সমাজের মানুষকে এমন বিশ্বাস থেকেই গার্লস টেকওভার কর্মসূচি চালু করা হয়।
কিশোরী বা তরুণীরা নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি ও নিজের স্বপ্ন পূরণে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়। তাদের অবস্থান, নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত ও সাফল্য তুলে ধরার আবহ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজিত হাওলাদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মামুন আল ফারুক, জেলা তথ্য অফিসার মো. নুরুল আমিন, ভোলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহমুদ খান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা আকতার হোসেন, ভোলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শারমিন জাহান শ্যামলী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এনসিটিএফ ভোলা জেলা সমন্বয়কারী সাংবাদিক আদিল হোসেন তপু।
এ সময় তাসনিম আজিজ রিমি মা শিক্ষিকা মরিয়ম বেগম ও ন্যাশনাল চিলড্রেন’স্ টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ) এর ভলেন্টিয়ার রিমা আক্তার শিমু, সভাপতি মো. শাফায়েত হোসেন (সিয়াম),সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদ ইমন, সাংগঠনিক সম্পাদক রাশিদ আবিদ ইফতি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, রিমি ২০২০ সালের ২৮ অক্টোবর এক ঘণ্টার জন্য প্রতীকী পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালন করেন। এবং এ বছর পদোন্নতি হয়ে প্রতীকী জেলা প্রশাসকের দ্বায়িত্ব পালন করেন।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন