এইডস ঝুঁকিতে উখিয়া-টেকনাফ

উখিয়া নিউজ ডেস্ক::
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারে এইডস রোগীর সংখ্যা আড়াই লাখের ওপরে। এইডস ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর তালিকার ওপরের দিকে আছে দেশটি। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার হিসেব অনুযায়ী সে দেশের প্রতি এক হাজার জনে আট জনই এইচআইভি পজেটিভ।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে তাই চিন্তিত হয়ে পড়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যদিও এখনই খোলাখুলি কথা বলতে রাজী হননি মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা।

তবে কক্সবাজারের স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, ২৫ আগস্টের পর আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৯ জন এইডস রোগী শনাক্ত করা গেছে। একজন এরই মধ্যে মারাও গেছে।রোহিঙ্গাদের মধ্যে আরও অনেক এইচআইভি আক্রান্ত ও এইডস রোগী থাকতে পারে। দ্রুত এইচআইভি আক্রান্তদের চিহ্নিত করা না গেলে কক্সবাজার, বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলাসমূহ ও পুরো বাংলাদেশে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, মিয়ানমারে প্রতি ১ হাজার জনে ৮ জনের এইচআইভি পজেটিভ বলে ধরে নেওয়া হয়। সেই হিসাবে বাংলাদেশে যে সংখ্যায় রোহিঙ্গা এসেছে, তাতে কমপক্ষে ৪ হাজার জনের এইডস থাকার কথা। এ কারণে এইচআইভি পজেটিভ ব্যক্তিদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া ও তাঁদের রোগ শনাক্ত করার জন্য টেকনাফ ও উখিয়ায় দুটি ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে।
আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা বা আইওএম’র হিসেবে গত ২৫ আগস্ট থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ৫ লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যা সাত লাখ ছাড়িয়েছে। এদের সবাই কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়া ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ১২টি ক্যাম্প ছাড়াও বিভিন্ন গ্রামে এবং বাসাবাড়িতে অবস্থান করছে। মানবিক কারণে তাঁদের আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা সেবাসহ সব সহযোগিতা দিচ্ছে সরকার
….
কক্সবাজারের সিভিল সার্জনের দপ্তর-সূত্র বলছে, এখন পর্যন্ত সোয়া দুই লাখ রোহিঙ্গাকে সরকারিভাবে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। এরা বিভিন্ন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত।

নতুন আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে গত ১৬ সেপ্টেম্বর উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে ২ জন নারীর এইচআইভি পজেটিভ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরে ওই ক্যাম্পের আরও ৪ জন নারীর এইচআইভি পজিটিভ বলে জানা যায়। এই ৬ জনের ১ জন মারা গেছে। অন্য ৫ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইচআইভি আক্রান্তদের শনাক্ত করতে কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা আশার আলো সোসাইটি ও কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল।

কক্সবাজার সদর হাসপাতাল সূত্র মতে, আগেও মিয়ানমার থেকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইডস রোগী পাওয়া গেছে। ২০১২ সাল থেকে চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজারে মোট ১৬৭ জন এইডস রোগীর সন্ধান মেলে। ৫৪ জনই রোহিঙ্গা। এখানে এখন পর্যন্ত যে ৪২ এইডস আক্রান্ত মারা গেছে তাদের ১০ জনই রোহিঙ্গা।

২৫ আগস্টের পর এইচআইভি আক্রান্ত ১৯ জন রোহিঙ্গা পাওয়া গেছে। এদের ১১ জন নারী ও ৮ জন পুরুষ। এই ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জন আগে থেকেই এইডস রোগী হিসেবে মিয়ানমারে চিকিৎসা নিয়েছে। ক্যাম্পের চিকিৎসকদের কাছে তারা এইডস থাকার কথা জানিয়েছেন। ২ জন নিজেদের রোগ সম্পর্কে আগে থেকে জানতেনই না। বাংলাদেশে আসার পরই তা ধরা পড়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা বলছে, মিয়ানমারে ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ’র ব্যবহার বলতে গেলে একেবারেই নেই। একই সিরিঞ্জ বা সুঁই বারবার ব্যবহার করায় সেদেশে এইডস’র মতো সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব অত্যন্ত বেশি। এছাড়া দেশটিতে এই ভয়াবহ রোগ সম্পর্কে সচেতনতারও অভাব রয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই রোগ সম্পর্কে ধারণাই নেই। বিশেষ করে গ্রাম ও অনগ্রসর অঞ্চলের মানুষ এইডস কি, জানেই না। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারাও বলেছে, তাঁরা এইচআইভি বিষয়ে কিছু জানতো না। মিয়ানমারে থাকতে তাঁরা চিকিৎসা সেবাও পেতো না।

উখিয়া থানা স্বাস্থ্য ও পরিবার কর্মকর্তা ডা: মেজবাহ উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, রোহিঙ্গারা একেবারেই স্বাস্থ্যসচেতন নয়। আগে দরকার তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানো। এদের এক স্থানে রেখেই সেটা করতে হবে। তা না হলে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে। টেকনাফ, উখিয়াসহ পুরো কক্সবাজারের মানুষের জন্য তা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করবে।