“উদ্বাস্তুদের জন্য গড়ে উঠা শহর ‘কক্সবাজার”

আলমগীর মাহমুদ ::
পাড়ায় সুন্দরী মেয়েদের পাহারাদার বনে পাড়ারই জোয়ানেরা।প্রেমনিবেদনে ব্যর্থ হবার পরও নিজেরে ভাবে না ব্যর্থ প্রেমিক।তারপরও বায়বীয় ভাবনায় সবই তার ।

অন্যপাড়ার কেউ এসে সুন্দরীর মরমে পশতে গেলেই জ্বলে উঠে, আওয়াজ তুলে ‘খবরদার কইলাম আমাদের পারাইল্যা মেয়ে’ চোখ দিলে চোখ হারাবি!’

যেদিন সুন্দরীর বিয়ের বাদ্য বায় সেদিন প্রেমিক প্রবর জোয়ানের বুকে যে কালবৈশাখীর তান্ডব, ‘কক্সবাজার শহর আমার নয়,উদ্বাস্তুদের’। এমন তথ্য জানার পর বিরহের আইলা,সিডর আমার বুকেও।কারন একটি আরাকানী এই উদ্বাস্তুরা যদি কয়,” বহুতদিন খাইছস,এবার আমাদের শহর ফেরত দে!

১৭৮৪ সালের শেষের দিকে বর্মীরাজ বোধপায়া আরাকান দখল করে বার্মার সাথে সংযুক্ত করেন।বোধপায়া আরাকানকে রামরী,সানডুওয়ে,মেয়োং,ও আরাকান এই চারটি প্রদেশে বিভক্ত করে স্বমনোনীত চারজন প্রতিনিধির হাতে শাসন ভার অর্পণ করেন।১

বর্মী জেনারেল যত সংখ্যক সম্ভব আরাকানীদের গ্রেপ্তার করে। স্ত্রীলোক ও পুরুষদের দু’ভাগে ভাগ করে স্ত্রীলোকদের বার্মায় পাঠিয়ে দেয় এবং পুরুষদের হত্যা করে।২

বর্মী বাহিনীর দমন নীতির পরিপ্রেক্ষিতে অগুনতি আরাকানী উদ্বাস্তু সীমান্ত পার হয়ে চট্টগ্রামে আশ্রয় নেয়।৩

১৭৬০ সালে মীরকাশিমের নিকট হতে কোম্পানী চট্টগ্রামের রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব গ্রহন করে, দক্ষিণ চট্টগ্রামে আরাকানী দের বন্দোবস্ত দেবার সুনির্দিষ্ট নীতি লক্ষ্য করা যায়।উদ্দেশ্য অনাবাদী জমি আবাদ।মগ আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধকতা গড়ে তোলা।
চট্টগ্রামে কোপানীর প্রধান হ্যারি ভেরেলষ্ট ‘মগ জমা’ তুলে দিয়ে আরাকানীদের বসতি স্থাপনে স্বাগত জানান।৪

ad

১৮১২ সালে আরাকানীদের ভূমি বন্দোবস্তের উপর ১১ নং আইন বিধিবদ্ধ ও জারী করা হয়৫ পরবর্তী কালে পূর্ণবাসনে নুতন সমস্যা দেখা দেয়।৫

উদ্বাস্তুদের চাষাবাদের জমি ছিল বালুকাময়। সমুদ্রের কয়েক গজ দূরত্বের মধ্যে।জমি কর্ষনযোগ্য ছিল না।প্রথম থেকেই উদ্বাস্তুরা খাজনা দিত না বরং প্রত্যেকে নিজস্ব বাড়ি মনে করে বাস করতো।

১৮১৭ সালে চট্টগ্রামের ম্যাজিস্ট্রেট পিচেল এই অঞ্চলটি করমুক্ত ঘোষণার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করেন।৬
১৮১৭ সালে ১০ এপ্রিল কোম্পানী উদ্বাস্তুদের জন্য একটা করমুক্ত শহর গড়ার পরিকল্পনা গ্রহন করতে সম্মত হয়।এই পর্যায়ে একটা সনদ দেয়া হয়।

সনদে ঘোষণা করা হয়, “কক্সবাজার নামে এলাকাটি সরকারী সম্পত্তি এবং তা প্রকৃত বসবাসকারীদের জন্য করমুক্ত ও অবিভাজ্য সম্পত্তি। কোন ব্যক্তি কোন উদ্বাস্তুর নিকট হতে রাজস্বের অজুহাতে কোন অর্থ বা দ্রব্য আদায় করার অধিকার নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।এই এলাকার উপর সমস্ত দায়িত্ব ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর।”

দোহাইঃ–
1.Lieutenant Colonel to the Commander -in-Chief,Political Consultants (henceforth referred as P.c.),25 April,1794 No,14,Muhammad Siddiq khan Collections(henceforth referred as M.S.K.C.),Political Proceedings, (henceforth referred as P.P.),Vol.1,P.194.

2.Aspinal,A.,English Relations with Burma in the time Cornwallis and Shore(1786-1798)’,Bengal Past and Present, (henceforth referred as B.P.P.),Vol.X1.,part,11,1930, p,101.

3. Harvey, G.E.,Burma,p.149.

4. Serajuddin,Alamgir Muhammad, The Revenue Administration of the East India company in Chittagong, (Chittagong University 1971), P.120

5. Governor General to the Magistrate of Chittagong. P.C.,17 February, 1974 No.19,M.S.K.C.,P.P.,Vol..1,p,21.

6.Captain to the Chief -in-Chief,P.C., 17 February, 1794, No. 12, M.,S.K.C.,P.P., Vol.1. P.38.

7. Harvey, G.E., অংকিত শাহপরীর দ্বীপ চিহ্নিতকরণ ম্যাপ যেখানে ঢাকা–চট্টগ্রাম-রামু-নাফ –আকিয়াব দেখা যায় কক্সবাজারের অস্তিত্ব নেই।(সংযোজিত)

লেখকঃ-
বিভাগীয় প্রধান।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ।
উখিয়া কলেজ, ককক্সবাজার।
alamgir83cox@gmail.com