উদ্ধার ৬৮ রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জদের জিম্মায়, ৮ দালাল কারাগারে

টেকনাফের সেন্টমার্টিনের অদূরবর্তী সাগরে রোহিঙ্গাবাহী ট্রলার ডুবির ঘটনায় গ্রেফতার আসামিদের জেল হাজতে প্রেরণ এবং জীবিত উদ্ধার হওয়াদের স্ব-স্ব ক্যাম্প ইনচার্জ বরাবরে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় টেকনাফ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারিক হাকিম হেলাল উদ্দিন এ আদেশ দেন বলে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম।

টেকনাফের সেন্টমার্টিনের নিকটবর্তী সাগরে রোহিঙ্গাবাহী ট্রলার ডুবির ঘটনায় কোস্টগার্ড সেন্টমার্টিন স্টেশনের কন্টিজেন্ট কমান্ডার (পিআরও) এমএস ইসলাম বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এতে অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকেও আসামি করা হয়েছে।

মামলা দায়ের করার পর মঙ্গলবার রাত ও বুধবার সকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা থেকে এজাহারভূক্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করে। এর আগে ট্রলার ডুবির ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ৪ জনকে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার দেখিয়েছিল পুলিশ। গ্রেফতার এসব দালালদের মধ্যে ২ জন রোহিঙ্গা এবং ৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক বলে পুলিশ জানিয়েছিল।

এদিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভূক্ত আরও ৪ দালালকে গ্রেফতার করেছে। এ নিয়ে মোট ৮ জন দালাল গ্রেফতার হয়েছে। অন্যদিকে সেন্টমার্টিনের নিকটবর্তী সাগরে মুর্মূষু অবস্থায় উদ্ধার করেছে আরো ১ জন রোহিঙ্গাকে। এতে এ পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৭৩ জন মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গা। গ্রেফতার দালালদের মধ্যে ২ জন রোহিঙ্গা ও ৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক।

মঙ্গলবার ভোর রাতে টেকনাফের সেন্টমার্টিনের নিকটবর্তী সাগরে মালয়েশিয়াগামী ১৩৮ জন রোহিঙ্গা বোঝাই একটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। এতে কোস্টগার্ডসহ নৌ-বাহিনী ও স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় ১৫ জনের মৃতদেহ এবং জীবিত অবস্থায় ৭২ জনকে উদ্ধার করা হয়। পরে বুধবার ভোর রাতে সেন্টমমার্টিনের নিকটবর্তী সাগর থেকে মুর্মূষুবস্থায় আরও ১ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে কোস্টগার্ড।

এদিকে ঘটনায় নিহত ১৫ জনের লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এদের মধ্যে ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত হলেও অপর ৬ জনের পরিচয় নিশ্চিত হতে পারেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পিপি ফরিদুল আলম বলেন, বুধবার বিকালে সেন্টমার্টিনের নিকটবর্তী সাগরে ট্রলার ডুবির ঘটনায় গ্রেফতার আসামিদের এবং জীবিত উদ্ধার হওয়াদের আদালতে আনা হয়।

এসময় বিচারক আসামিদের জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়াদের স্ব-স্ব রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জের কাছে হস্তান্তর করতে দির্দেশও দিয়েছেন।

মামলার বাদী গ্রেফতার আসামিদের পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন জানাবেন বলে আদালতে উপস্থাপিত আর্জিতে উল্লেখ করেছেন বলে জানান পিপি ফরিদুল।

সেন্টমার্টিন স্টেশন কমান্ডার লেঃ নাইম উল হক জানান, ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের সন্ধানে আমাদের জাহাজ এবং বোট উদ্ধারের জন্য টহল চালিয়ে যাচ্ছে।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন