উখিয়া শিক্ষা কর্মকর্তাকে করতে হচ্ছে কেরানীর কাজ

উখিয়া নিউজ ডটকম::
জনবল সংকটের কারণে উখিয়ার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। মাঠ পর্যায়ে স্কুল তদারকি না থাকায় শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে অভিভাবকদের মাঝে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। অফিসে অনুপস্থিত করণিকের কারণে শিক্ষা কর্মকর্তাকে কেরানীর কাজ করতে বাধ্য হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উখিয়া শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার পদে ৩ জন কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও দায়িত্বে রয়েছে ২ জন। উচ্চমান সহকারি, অফিস সহকারি, হিসাব সহকারি ও অফিস সহায়ক পদে পর্যাপ্ত জনবল নেই। অভিযোগ উঠেছে, হিসাব সহকারি পদে সুমন চক্রবর্তী নামের একজন কর্মচারী অফিসে দায়িত্ব পালন করলেও তা শুধু নামেমাত্র। তিনি মাসের অধিকাংশ সময় কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। শিক্ষা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ এ পদের নির্ধারিত কর্মচারীর অনুপস্থিত থাকার কারণে অফিস সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানকল্পে প্রাথমিক শিক্ষকদের দূর্ভোগের বুঝা মাথায় নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে শিক্ষা ক্ষেত্রে। এছাড়া উক্ত সুমনের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ,শিক্ষকদের বদলি বানিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এতসব অভিযোগ থাকলেও কক্সবাজারের সরকারদলীয় একজন এমপির বদৌলতে সে সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে। কোনকিছু হলে উক্ত এমপি সবকিছু সামলে নিচ্ছে বলে এলাকায় ব্যপকভাবে প্রচার আছে।
এ ব্যাপারে শিক্ষা কর্মকর্তা উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় অনুপস্থিত কর্মচারীর বিরুদ্ধে উপর্যপুরি ২ বার অভিযোগ করেছে বলে স্বীকার করেছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বাবু সুব্রত কুমার ধর। তিনি বলেছেন, জনবল সংকটের কারণে তাকে স্কুল পরিদর্শন বাদ রেখে শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা হয়ে কেরানীর কাজ করতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষা অফিসের হিসাব সহকারী সুমন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কর্মচারীর সাথে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রাথমিক শিক্ষক এ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন।
জানা গেছে, এ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে ৫১৩ জন শিক্ষকের স্থলে ৫৭টি পদে কোন শিক্ষক নেই। এরই মধ্যে এডিবি ও বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ১০টি সাইক্লোন সেন্টার কাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ কাজ চলছে। এসব স্কুলের নির্মাণ কাজ কেমন হচ্ছে তা দেখারও কোন সুযোগ নাই বলে ওই শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন