উখিয়া বঙ্গমাতা মহিলা কলেজ সরকারি করণ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

আজিম নিহাদ :

সম্প্রতি সরকারি করণে প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে ২৭১ টি বেসরকারি কলেজ। সেই তালিকায় কক্সবাজারের ছয়টি কলেজের নাম থাকলেও অজ্ঞাত কারণে বাদ পড়েছে উখিয়া বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার দীর্ঘদিনেও সরকারি করণ বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, গত ২ আগষ্ট প্রধানমন্ত্রীর চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ২৭১ টি কলেজের সার-সংক্ষেপ প্রেরণ করে মন্ত্রণালয়। পরে গত ৮ আগষ্ট চুড়ান্তভাবে সরকারী করণের অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই তালিকায় কক্সবাজারের পাঁচটি কলেজ রয়েছে। কলেজ গুলো হলো- কুতুবদিয়া কলেজ, চকরিয়া ডিগ্রী কলেজ, টেকনাফ ডিগ্রী কলেজ, রামু ডিগ্রী কলেজ ও মহেশখালী বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ। কিন্তু সেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে উখিয়া বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ। যদিও ২০১৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর উখিয়া হাইস্কুল মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশাল জনসভায় কলেজটি সরকারি করণের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর দানপত্র দলিল (ডিড অব গিফ্ট) সম্পন্ন করে কলেজের সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী ডিড অব গিফট সম্পন্ন করলেও কলেজটি জাতীয় করণের গেজেট হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয় সাংসদ আব্দুর রহমান বদিও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি লিখেছিলেন।

২০১৬ সালে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ ছাড় না পাওয়ার অজুহাতে ১৫ টি কলেজের সাথে এ কলেজটিও সরকারি করণ থেকে বাদ পড়েছিল। সর্বশেষ গত ৮ আগষ্ট ২৭১ টি বেসরকারি কলেজ সরকারি করণ হলেও এ তালিকা থেকে অজ্ঞাত কারণে বাদ পড়েছে উখিয়া বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ।

উখিয়া নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, ‘শিক্ষা অবহেলিত সীমান্ত জনপদের নারী শিক্ষার জন্য উখিয়া-টেকনাফের নারীদের উচ্চ শিক্ষার একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এটি। এই কলেজ প্রতিষ্ঠার ফলে অনেক পিছিয়ে পড়া নারীরা উচ্চ শিক্ষা অর্জনের সোপান পেয়েছে। আমাদের দাবী ছিল কলেজটি সরকারি করণ। প্রধানমন্ত্রী নিজেই ২০১৩ সালে উখিয়া সফরে সরকারী করণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এতে করে মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, এমনিতেই আমরা রোহিঙ্গাভারে জর্জরিত। রোহিঙ্গাদের জন্য উখিয়া- টেকনাফের মানুষের ত্যাগ সারাবিশে^র কাছে প্রশংসিত। কিন্তু এত ত্যাগ স্বীকার করেও একটি কলেজ সরকারি করণ হচ্ছে না। আমরা চায়, দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়ন হউক।

উখিয়া বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, না সরকারি, না বেসরকারি এমন অবস্থার মধ্যে পড়ে বেতন-ভাতা নিয়ে ফাঁপরে পড়তে হয়েছে। জাতীয়করণ প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে সরকারের নির্দেশে তাদের কলেজে সব ধরনের নিয়োগ-পদোন্নতি বন্ধ আছে। এতে শূন্য পদে নিয়োগ দিতে না পারায় মারাত্মকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিজ থেকেই কলেজটি সরকারী করণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না তা আদৌ আমাদের বোধগম্য নয়। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরী হচ্ছে। সরকারের উচিত দ্রুত সরকারি করণ ঘোষণাটি বাস্তবায়ন করা।

 

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে উখিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মীনি বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ। দীর্ঘদিনেও কলেজটি সরকারি করণ না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। সরকারি করণ থেকে বার বার বাদ পড়ায় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন ও শিক্ষার্থীরা শিগগিরই আন্দোলনে নামবে বলে জানা গেছে।