উখিয়ায় ২০০ বেডের কোভিড হাসপাতাল উদ্বোধন আজ

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :
উখিয়াতে ২শো বেডের করোনা আইসোলেশন হাসপাতাল (কোভিড হাসপাতাল) আজ ২১মে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উদ্বোধন করা হচ্ছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে জেলার প্রথম পরিপূর্ণ এই কোভিড হাসপাতালটি উদ্বোধন করবেন। সামাজিক ও শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে, স্বাস্থ্য বিধি মেনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে কোভিড হাসপাতালের অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ইউএনএইচসিআর-এর কক্সবাজার অফিসের হেড অব অপারেশন ইনাকু টুকি, কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মাহবুবুর রহমান, আরআরআরসি অফিসের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি, উখিয়ার ইউএনও মোঃ নিকারুজ্জামান, উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রঞ্জন বড়ুয়া, WHO এর প্রতিনিধি, রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল এর প্রতিনিধি সহ সংশ্লিষ্ট সকলে উপস্থিত থাকবেন।

গত ৩০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া আইসোলেশন হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক হাই কমিশন (ইউএনএইচসিআর) এর অর্থায়নে এই বৃহৎ আকারের আধুনিক করোনা আইসোলেশন হাসপাতালটি নির্মিত হয়েছে। মূলতঃ দেড়শো বেডের এই হাসপাতালে ২শো বেডের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ফ্যাসিলিটি থাকবে।

হাসপাতাল নির্মাণ কাজের সক্রিয়ভাবে জড়িত একটি সুত্র জানিয়েছেন, গত ১৯মে ১৫০ জনের মেডিকেল টিম কক্সবাজার এসে পৌঁছেছে। তাদেরকে হাসপাতালটি ২০মে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা এখন হাসপাতালে ট্রায়াল ব্যবস্থাপনা কাজ করছেন। প্রতিদিন ৩শিফটে ৫০ জন করে চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, মিডওয়াইফ, ক্লিনার, আয়া সহ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী কোভিড হাসপাতালটিতে ডিউটি করবেন। ১৫০ জনের মেডিকেল টিম ও সংশ্লিষ্ট আরো ১৫জন সহ মোট ১৬৫ জনের থাকার জন্য আবাসিক ব্যবস্থা হিসাবে উখিয়ার ইনানীতে একটি বড় হোটেল ভাড়া করা হয়েছে। ২টি বাস ও ২টি আধুনিক মডেলের মাইক্রোবাস তাদের যাতায়াতের জন্য রাখা হয়েছে। আবার তাদের ব্রেকফাস্ট সহ ৩বেলা উন্নতমানের স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসম্মত খাওয়া, ২বেলা নাস্তা সরবরাহের জন্য অপর একটি রেস্টুরেন্টের সাথে চুক্তি করা হয়েছে। উখিয়ার কোভিড হাসপাতালটিতে সবসময় ৩টি এম্বুলেন্স স্টেনবাই থাকবে। ২টি এম্বুলেন্স আভ্যন্তরীণ রোগী আনা নেওয়া করবে। অপর এম্বুল্যান্সটি চট্টগ্রাম, ঢাকা সহ দুরে কোথাও রোগী রেফার করা হলে সেখানে রোগী নিয়ে যাবে।

সুত্রটি জানিয়েছেন, এই কোভিড হাসপাতালটি রোহিঙ্গা শরনার্থী ও স্থানীয় নাগরিকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পের অভ্যন্তরে প্রায় সাড়ে ১১লক্ষ রোহিঙ্গা শরনার্থীর জন্য ১১টি পৃথক পয়েন্টে নির্মিত হচ্ছে, ১৯শো বেডের কোভিড আইসোলেশন হাসপাতাল। তারমধ্যে ৮শো বেডের হাসপাতালের নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট আইসোলেশন হাসপাতাল গুলোর নির্মাণ কাজও আগামী ১০জুনের মধ্যে শেষ হবে। তাই উখিয়ায় আজ উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা কোভিড হাসপাতালটিতে করোনা আক্রান্ত রোহিঙ্গা শরনার্থীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কোনা দরকার নেই। সুত্র মতে, উদ্বোধনের দিন, ২১মে বৃহস্পতিবার থেকে উখিয়ার কোভিড হাসপাতালে রোগী ভর্তি করা হবে। তবে কোন পুরাতন রোগী নয়। যেসব রোগীর স্যাম্পল টেস্টের রিপোর্ট ২২মে ‘পজেটিভ’ আসবে শুধু সেসব রোগীদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সেখানে ভর্তি করা হবে। এই কোভিড হাসপাতালটি ২১মে চালু করার পর কক্সবাজারের রামু ও চকরিয়ার ২টি ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের উপর চাপ কিছুটা হলেও কমবে। সুত্র মতে, স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কোন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী উখিয়া কোভিড হাসপাতালে রেফার করলেই সেখানে ভর্তি করা হবে। এ বিষয়ে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালনাধীন রামু ও চকরিয়া ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালে রোগী সংকুলান নাহলে উখিয়ায় উদ্বোধন হতে যাওয়া কোভিড হাসপাতালে রোগী রেফার করা হবে।

উখিয়া কলেজের একটু দক্ষিণ পার্শ্বে প্রায় ৩একর জমির উপর কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের সামান্য ভিতরে এই কোভিড হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ গত ৩০ মার্চ থেকে শুরু হয়েছিলো।

অত্যাধুনিক সুবিধা সম্বলিত হাসপাতালটির সকল চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ, স্বাস্থ্য কর্মী, এ্যাম্বুলেন্স, খাদ্য সহ মাসিক সকল ব্যয়ভার ইউএনএইচসিআর কর্তৃপক্ষ বহন করবেন। এ হাসপাতালে আপাতত শুধুমাত্র করোনা ভাইরাস রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের ঐকান্তিক আগ্রহ ও প্রচেষ্টায় ইউএনএইচসিআর এ করোনা সংক্রমণকালীন সময়ে কোভিড হাসপাতালটি নির্মাণ করছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাঃ শাজাহান আলি।
এই কোভিড হাসপাতালটি কক্সবাজারের প্রথম পরিপূর্ণ একটি করোনা আইসোলেন COVID-19 হাসপাতাল।

এদিকে, উখিয়াতে জরুরি প্রয়োজনে ইউএনএইসসিআর এর অর্থায়নে নির্মিত এই ২শ’ বেডের কোভিড হাসপাতালে ভেন্টিলেটর ব্যবস্থা আছে কিনা, এ বিষয়ে হাসপাতালটির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত একজন দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, এটি একটি ব্যয়বহুল চিকিৎসা সরঞ্জাম। প্রাথমিকভাবে কিছু বেডে ভেন্টিলেটর চিকিৎসা ব্যবস্থা করার চিন্তা ভাবনা রয়েছে। হাসপাতালটি চালু করার পর ভেন্টিলেটর আমদানি করে সেখানে স্থাপন কর হবে। পরে পর্যায়ক্রমে আর কিছু বেডে ভেন্টিলেটর স্থাপন করার পরিকল্পনা মাথায় রেখে হাসপাতালটির নির্মাণ কাজের ড্রয়িং, ডিজাইন, প্ল্যান করা হয়েছে। যেসব করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের ভেন্টিলেটর প্রয়োজন হবে, সেসব রোগীকে ভেন্টিলেটর থাকা বেডে রেখেই চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। আর যেসব রোগীদের ভেন্টিলেটরের সহায়তা প্রয়োজন হবেনা, সেসব রোগীদের নরমাল বেডে রেখে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরো বলেন, এখানে সঙ্গত কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি সহ বিদেশী উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়মিত আনাগোনা বেশি থাকবে, তাই নির্মিত এই ২শ’ শয্যার আইসোলেন হাসপাতালটি বিশ্বমানের পরিপূর্ণ একটি কোভিড হাসপাতাল হিসাবে গড়ে তোলার চিন্তাভাবনা রয়েছে। আর স্থানীয় জনসাধারণ ও রোহিঙ্গা শরনার্থী উভয় জনগোষ্ঠীর সুবিধার্থে হাসপাতালটির স্থান রোহিঙ্গা শরনার্থী এরিয়া থেকে আরো উত্তরে এগিয়ে এনে মধ্যবর্তী স্থানে নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন হাসপাতালটিতে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে।

ইউএনএইসসিআর এর অর্থায়নে নির্মিত এই ২শ’ বেডের করোনা আইসোলেশন হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ এনজিও ব্রাক পরিচালনা করছে। ব্রাক এর এধরণের হাসপাতাল নির্মাণে পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় এবং এবিষয়ে তাদের টেকনিক্যাল পারসন থাকায় তাদেরকে দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের তত্বাবধানে হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ করা হয়েছে বলে সুত্রটি জানিয়েছেন। ইউএনএইচসিআর এর অর্থায়নে বর্তমানে রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল কোভিড হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত রয়েছে।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন