ad

উখিয়ায় বিলুপ্তির পথে ধানের গোলা

উখিয়া নিউজ ডটকম::
উখিয়া উপজেলায় এখনো কিছু গোলা চোখে পড়ে, যেগুলো পূর্বপুরুষেরা স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছেন কৃষকেরা। গ্রামে-গঞ্জে এক সময় অবস্থা সম্পন্ন কৃষকের বাড়িতে শোভা পেতো ধানের গোলা। যাদের জমির পরিমাণ একটু বেশি তারা ধান সংরক্ষণের জন্য এই বাঁশের গোলা ব্যবহার করতেন।
গ্রামবাংলার সমৃদ্ধির প্রতীক ধানের গোলা খুবই উপযোগী। ধানের মৌসুমে ধান কেটে শুকিয়ে গোলায় রাখা হয়। প্রয়োজনের সময় গোলা থেকে ধান বের করে পুনরায় রোদে শুকিয়ে ধান ভাঙানো হয়। অথচ বর্তমানে অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে এই ধানের গোলা। তবুও পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এখনো কেউ কেউ এই ধানের গোলা রেখে দিয়েছেন। এসব ধানের গোলায় ৮০ থেকে ১০০ মণ ধান সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। উখিয়া উপজেলার ডেইলপাড়া এলাকায় এখনও চোখে পড়ে এসব ধানের গোলা।
ঐ গ্রামের হোছন আলী (৬২) বলেন, ‘এক সময়ে নামকরা গেরস্থ বলতে- মাঠ ভরা সোনালি ফসলের ক্ষেত, গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ আর কৃষকের গোলা ভরা ধানকেই বুঝাতো। ‘কিন্তু এসব এখন যেন প্রবাদ বাক্যে পরিণত হয়েছে। হারিয়ে গেছে গেরস্থের ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা। তবুও আমরা পুর্বপুরষদের ব্যবহৃত সেই ধানের গোলা স্মৃতি স্বরূপ সংরক্ষণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
তিনি জানান, তিনি ও তার চাচাতো ভাইয়ের তিনটা ধানের গোলা রয়েছে। সেই গোলাগুলো এখনো ভালো আছে। গোলাতে ধান সংরক্ষণ করছেন। অবশ্য এখন আর আগের মতো কেউ ধান রাখে না। বস্তায় করে গোডাউন অথবা ঘরের মধ্যে রেখে দেন।
রাজাপালং ইউনিয়নের পূর্বডিগলিয়াপালং গ্রামের নুরু মিয়া(৩৪) জানান, প্রথমে বাঁশ-কঞ্চি দিয়ে গোল আকৃতির কাঠামো তৈরি করা হতো। ভেতরে ও বাইরে আস্তরণ লাগিয়ে তৈরি করা হতো এই ধানের গোলা। ধানের গোলায় ঢুকে ক্ষতি করতে পারতো না ইঁদুরও। গোলায় শুকানো ভেজা ধানের চাল হতো শক্ত। কৃষকের কাছে এটিই ছিলো ধান রাখার আদর্শ পন্থা।
সিকদার বিল এলাকার জানে আলম বলেন, ‘গোলাগুলো আমাদের পরিবারের ঐতিহ্য বহন করে। দাদার আমল থেকে দেখে এসেছি এগুলো। ধান রাখার পাশাপাশি ঐতিহ্য রক্ষায় তাই এখনো রেখে দিয়েছি।’
ওই এলাকার শাহ জাহান নামের আরেক কৃষক বলেন, ‘এখন আর গোলার প্রচলন বা কদর নেই। ড্রাম-বস্তাতেই ধান রাখি। যে ধান পাই, তা তো বিক্রি করে আর খেতেই ফুরিয়ে যায়। গোলায় রাখবো কী? তবুও অযতেœ অবহেলায় রেখে দিয়েছি। একদিন এভাবেই শেষ হয়ে যাবে।’
একই উপজেলার করইবনিয়া গ্রামের মনছুর আলী বলেন, ‘বাবার প্রায় একশো বিঘা জমি ছিলো। প্রতিদিনই কৃষকরা কাজ করতেন। ধান ছাড়াও বিভিন্ন চৈতালী ফসল ফলানো হতো সেসব জমিতে। ধানসহ অন্যান্য ফসল সংরক্ষণের জন্য ছিলো বেশ কয়েকটি গোলা। কিন্তু এখন আর সেসব নেই। একটিমাত্র গোলা রয়েছে সেটিও স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছি।’

ad