উখিয়ার পালংখালীর সেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ

উখিয়া নিউজ ডটকম::
উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের মুছারখোলা বনবিটের আওতাধীন চৌখালী নামক স্থানে দেড়’শ হেক্টর বনভূমিতে নবনির্মিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসক। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী। এই খরব এলাকাবাসির মাঝে পৌছলে স্বস্তির নিঃশ^াস ফেলে হতদরিদ্র শতাধিক গ্রামবাসি।
জানা গেছে, উখিয়া-টেকনাফে ৩২টি ছোট ক্যাম্প থাকার পরও উখিয়ার চৌখালীতে নতুন করে আরো একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করে আরআরআরসি। এনজিও সংস্থা ব্রাক ইতিমধ্যে সেখানে বোল্ডডোজার দিয়ে বেশ কয়েকটি পাহাড় কেটে মাঠে পরিনত করেছে। এ নিয়ে গ্রামবাসি শত প্রতিবাদ করার পরও কোন কাজ না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন। এ নিয়ে সরজমিন জেলার বহুল প্রচারিত দৈনিক আজকের দেশবিদেশ পত্রিকায় ধারাবাহিক কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে টনক নড়ে উপজেলা ও জেলা প্রশাসন সহ শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের।
চৌখালী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ছৈয়দ নুর. মোঃ আবু মুছা, সেলিম মিয়া, রিয়াদ, আব্দুল হান্নান, মো. হারুন, হেলাল উদ্দিন ও একরাম জানান, এই জমিতে তাদের নামে বনববিভাগের ২০১০-১১সালে সৃজিত আগর বাগানের দলিল রয়েছে। কিন্তু কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী তাদের পকেট ভারী করার জন্য নিরহ গ্রামবাসিদের উচ্ছেদ করে ক্যাম্প বসানো ষড়যন্ত্র করেছিল। আল্লাহ রহমত থাকার কারনে সরকারের উচ্চ মহল তা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। এসব গ্রামাবাসি অভিযোগ করে বলেন, কার্জ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এনজিও সংস্থা ব্রাকের পক্ষ থেকে কার্যক্রম পুরোদমে চালানো হয়। পাহাড় কাটা অব্যাহত রেখেছে তারা। স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল হক বলেন, স্থানীয়দের উচ্ছেদ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প স্থাপনের জন্য কার্যক্রম শুরু করায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। কারণ সেখানে বসবাসরত শতাধিক পরিবারের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। যার ফলে তাদেরকে পথে বসতে হবে। কিন্তু ক্যাম্প নির্মাণে কাজ বন্ধে হয়ে যাওয়া স্বস্তি ফিরেছে গ্রামবাসির মাঝে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জারীকৃত পত্রে উল্লেখ আছে নতুন করে রোহিঙ্গাদের জন্য কোন ধরণের স্থাপনা নির্মাণ করা যাবেনা। এই নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে বেশ কয়েক দিন যাবৎ পালংখালী ইউনিয়নের চৌখালী মাঠ নামক স্থানে ৪/৫টি বোল্ডডোজার দিয়ে নির্বিচারে স্থানীয় জন-সাধারণের সামাজিক অংশীদারিত্ব সবুজ বনায়ন নিধন করে পাহাড় কাটছিল কয়েকটি স্বার্থন্বেষী এনজিও সংস্থা। পত্র-পত্রিকার লেখালেখির কারনে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া শতাধিক ভুক্তভোগী গ্রামবাসি সহ পালংখালী ইউনিয়নবাসির মাঝে খুশি বন্যা বয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একটি নির্দেশনা ছিল যে, নতুন করে কোন রোহিঙ্গা ক্যাম্প স্থাপন করার যাবেনা, সেই নির্দেশনার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মহোদয় বৃহস্পতিবার একটি মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন যে, চৌখালীতে নতুন ক্যাম্প স্থাপনের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য। তবে আমি জরুরী কাজে কর্মস্থলের বাইরে থাকায় আপাতত এ নিয়ে বিস্তারিত বলতে পারতেছিনা।

ad