উখিয়ার আয়েশার প্রতারণা : বিয়ের ফাঁদে কলেজ পড়ুয়া ছেলে

নিউজ ডেস্ক::
গন্ডি পেরিয়ে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছে মোহাম্মদ ফারুক (১৬)। তার বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রি পাড়ায়। পড়ালেখার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিয়মিত সক্রিয় থাকেন। ফেসবুক চালানোর এক পর্যায়ে ফারুকের সাথে পরিচয় হয় আয়েশা বেগম (৩১) নামে এক নারীর। আয়েশার বাবা মঞ্জুর মিস্ত্রি, বাড়ি উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নে।
ফেসবুকে পরিচয়ের পর থেকে আয়েশা ও ফারুকের মধ্যে মেসেঞ্জারে চ্যাটিং শুরু হয়। এভাবে দুইমাস ক্ষুদে বার্তা, ইমো, হোয়াটস অ্যাপ ও মেসেঞ্জারে তাদের দুই জনের যোগাযোগ চলমান থাকে। কিন্ত সাদামাটা স্বভাবের কিশোর ফারুক ¯্রফে বন্ধুত্বের আবদার নিয়ে যোগাযোগ করলেও আয়েশার মনে লুকায়িত ছিল খারাপ উদ্দেশ্য। দিন যত গড়িয়েছে তাদের দুই জনের সম্পর্ক ততই ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়। এক পর্যায়ে কলেজ পড়–য়া কিশোরকে কৌশলে বিয়ের ছক তৈরী করে প্রতারক নারী আয়েশা।
প্রায় দুই মাসের বেশি সময় চ্যাটিং হলেও তাদের মধ্যে কোন সাক্ষাত হয়নি। তাই আয়েশা তার পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পর্কের এক পর্যায়ে ফারুককে সাক্ষাতের প্রস্তাব দেয়। ফারুক তার এ প্রস্তাবে রাজি হয়ে বাড়ির কাউকে কিছু না জানিয়ে ছুটে যায় আয়েশার গ্রামের বাড়িতে। ফারুকের পরিবারের
দাবি, আয়েশার বাড়িতে তার সাথে দেখা করতে যাওয়ার পর থেকে গায়েব হয়ে যায় সে। আয়েশার পরিকল্পনা ছিল, সে তাকে অস্থায়ী সময়ের জন্য ফাঁদে ফেলে বিয়ে করবে। আর এ বিয়ে ভাঙতে হলে ফারুকের পরিবারকে গুনতে হবে মোহরানা ও কাবিনের টাকা। আয়েশা করেছেও তাই। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজী ডেকে জোর করে ফারুকের সাথে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। আয়েশার প্রতারণার এ কাজে সহযোগী ছিল তার মাও।
এদিকে ফারুকের পরিবার বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে ফারুককে ফাঁসিয়ে বিয়ের খবরটি জানতে পারে। পরবর্তীতে পরবারের পক্ষ থেকে ফারুককে নিয়ে আসতে আয়েশা বাড়ি গেলে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়, কাবিনের পাঁচ লক্ষ টাকা এবং মোহরানা বাবদ ৫ ভরি স্বর্ণ পুষিয়ে দিতে পারলে ফারুককে ফেরত দেবে তারা। অন্যতায় ফারুককে আয়েশার স্বামী হয়ে থাকতে হবে।
আয়েশার পরিবার থেকে ফারুকের পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে বলা হয়, হয় সোজাসোজি ক্ষতিপূরণ দিয়ে ফারুককে নিয়ে যেতে , তা না হলে সবাইকে মামলার ভার বইতে হবে।’ এ কথা শুনে ফারুকের নিরীহ পরিবার কোন উপায়ান্তর না দেখে উখিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী ( নং-৯১৭) করেন।
এদিকে ফারুককে বার বার ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে তার পরিবার। ফারুকের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে উৎকন্ঠায় তার মায়ের শারিরীক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। অন্যদিকে আয়েশার দাবি মতো ক্ষতিপূরণের এত টাকা ফারুকের বাবার নেই।
ফারুকের মা মমতাজ বেগম বলেন, ‘ আমার সহজ সরল ছেলে ফারুক একজন দুশ্চরিত্রা নারীর ফাঁদে পড়েছে। ওই নারী ফারুককে জাদু টোনা’র মাধ্যমে বশে রেখেছেন। তা না হলে ফারুকের এমন অবস্থা হতোনা।’
তিনি বলেন,‘যে মহিলা আমার ছেলেকে বিয়ের দাবি করছে সে তো আমার বয়সের কাছাকাছি। এটি কিভাবে সম্ভব যে আমার ছেলে তার মায়ের সমবয়সী একজন মহিলাকে বিয়ে করবে ? ওই মহিলা আমার ছেলেকে ফাঁসিয়ে লোভের বশবর্তী হয়ে এসব কাজ করছেন। আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আয়েশা এর পূর্বেও প্রতারণার মাধ্যমে চার যুবককে র্ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছে। এদের একজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীও রয়েছেন। তারা সবাই এখনো কাবিন ও মোহরানা পুষিয়ে দিতে না পেরে আয়েশার স্বামী হিসেবে রয়েছে। পূর্বের স্বামীদের সাথে আয়েশা যোগাযোগ রাখেন, তবে এখনো কাউকে ছাড়িয়ে দেননি।
ফারুকের মামা মোঃ আয়ুব বলেন, ‘ফারুকের বিষয়টি আমরা মিটমাট করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। মেয়ের পক্ষ কোনভাবে ফারুককে পরিবারের হাতে তুলে দিতে নারাজ। এ ব্যাপারে আমরা উখিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছি। এরপরও কোন সুরাহা হচ্ছেনা। তাই ফারুককে প্রতারক ওই নারীর কবল থেকে উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি।’
সুত্র: আজকরে দেশবিদেশ