‘ইয়াবা ব্যবসায়ী’কে হজে যেতে জামিন

নিউজ ডেস্ক::

পবিত্র হজে যেতে শাহীন হোসেন (৪০) নামের এক ‘ইয়াবা ব্যবসায়ী’কে জামিন দিয়েছেন আদালত। গত ১১ জুলাই ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মাদ নুরুল আমিন বিপ্লব এই জামিন মঞ্জুর করেন। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার দেড় হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের একটি মামলায় চার মাস ৬ দিন হাজতে ছিলেন শাহীন। আদালতে তার আইনজীবীরা দাবি করেন, রাতে রাস্তা থেকে আটকে ৫ লাখ টাকা না পেয়ে টেলিকম ব্যবসায়ী শাহীনকে ইয়াবা ব্যবসায়ী সাজিয়ে মামলা দিয়েছে পুলিশ।

যাত্রাবাড়ী থানার ২২(৩)১৮ নম্বর মামলার তথ্য অনুযায়ী, বাড্ডার সাতারকুল উত্তর বাড্ডার হাজী হাছির উদ্দিন মাস্টারের ছেলে শাহীনের কাছ থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই মামলার অন্য আসামি মো. শওকত আলীর (৩৫) কাছ থেকে পাঁচশ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

গত ৫ মার্চ রাতে যাত্রাবাড়ী থানার ধলপুর কমিউনিটি সেন্টারের সামনে ডিবি পুলিশের ডেমরা জোনাল টিম শাহীন ও শাওকতকে গ্রেপ্তার করে। ওই সময় রফিক নামে তাদের আরেক সঙ্গী পালিয়ে যায়। পরে ডেমরা জেনাল টিম ডিবি পুলিশের এসআই (নিরস্ত্র) এরশাদ হোসেন একটি মামলা করেন। মামলায় বলা হয়, গ্রেপ্তাররা পলাতক আসামি রফিকের সহায়তায় কক্সবাজার থেকে নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে।

গত ৩০ এপ্রিল ডিবি পুলিশের ডেমরা জোনাল টিমের এসআই বিধানচন্দ্র মজুমদার আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পলাতক রফিকের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না পাওয়ায় তার নাম চার্জশিট থেকে অব্যাহতি চাওয়া হয়।

ad

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়ার পর শাহীন প্রথমে সিএমএম আদালতে জামিন চায়। আদালত তা নামঞ্জুর করেন। এর পর মহানগর দায়রা জজ আদালতেও গত ৯ মে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়। চার্জশিট দেওয়ার পর গত ১ জুলাই মামলাটি মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েস বিচারের জন্য চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করেন। যেখানে প্রথম শুনানির জন্য আগামী ২৯ জুলাই তারিখ ধার্য করা হয়।

গত ৮ জুলাই মামলার নথি চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে যাওয়ার পর ১০ জুলাই আসামি শাহীনের পক্ষে আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। এতে বলা হয়, আসামি উত্তর বাড্ডার একটি টেলিকমের মালিক। গত ৩ মার্চ দোকান থেকে বের হলে ডিবি পুলিশ তাকে আটকে ৫ লাখ টাকা চায়। তিনি তা না দেওয়ায় এই মামলা দেওয়া হয়। আসামি তার মাকে নিয়ে হজে যাওয়ার জন্য ২০১৭ সালে নিবন্ধন করেন। আগামী ১৭ জুলাই তাদের হজ ফ্লাইট নির্ধারণ হয়ে আছে। তাই হজে গমনের সুযোগ দিতে জামিন হওয়া প্রয়োজন। ১১ জুলাই শুনানি শেষে আদালত হজ পালনের সুযোগ দেওয়ার জন্য আসামির জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।