ইয়াবা কারবারিদের ঠেকানো যাচ্ছে না

উখিয়া নিউজ ডেস্ক::
চার মাস ধরে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। অভিযানে ৬১ হাজারেরও বেশি মাদককারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে র্যাব-পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ২২৮ মাদককারবারি। টানা অভিযানের মুখে মাদককারবারিদের অধিকাংশই আত্মগোপনে চলে গেছে। কিন্তু ইয়াবার কারবার ঠেকানো যায়নি। বিশেষ অভিযানের মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই এর বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে অনলাইনে বিক্রি অনেক বেড়ে গেছে। যদিও অভিযানের ফলে মাদক সরবরাহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় বেড়ে গেছে এই মরণনেশার দাম।

জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়াকড়ির কারণে বেশ কিছু অনলাইন সাইট ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অনেকটা প্রকাশ্যেই

ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া অনলাইন শপ, বিশেষ করে খাবার সরবরাহকারী কিছু অনলাইন সাইট জড়িয়ে পড়েছে ইয়াবার কারবারে। ঘরে বসে অর্ডার করলেই নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে যাচ্ছে ইয়াবা। অপেক্ষাকৃত নিরাপদ বাহন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মোটরসাইকেল। এ ছাড়া বিভিন্ন অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারকারীদের মোটরসাইকেলেও ইয়াবা বহন করা হচ্ছে। ‘পিলস ফর সেল অনলাইন’ নামের একটি ওয়েবসাইটে ইয়াবা বিক্রির বিজ্ঞাপন আসক্তদের নজর কাড়ার মতোই। গত ২৪ জুন ইয়াবা বহনকালে র্যাবের হাতে পাঠাও চালকসহ চারজন গ্রেপ্তার হয়।

ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ভিক্টিমোলজি অ্যান্ড রিস্টোরেটিভ জাস্টিস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক আমাদের সময়কে বলেন, মাদকবিরোধী এ ধরনের বিশেষ অভিযান প্রশংসনীয়। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যও মাদক কারবারদের সহায়তা করেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিজেরাও এর কারবারে যুক্ত হয়ে যান। তাদের আইনের আওতায় আনতে না পারলে এ অভিযানে কার্যত সফলতা আসবে না। কারণ তারা টিকে থাকলে মাদক কারবারও টিকে থাকবে।

র্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, অনলাইনে ইয়াবা বিক্রির বিষয়টি অনেকটাই তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। তবে এই চক্রকে ঠেকাতে র্যাব-পুলিশের সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের একাধিক টিম কাজ করছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি সাইট ও ফেসবুক পেজ শনাক্ত করা হয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে ইয়াবার।

র্যাব-পুলিশের করা তথ্য-উপাত্তের পরিসংখ্যান বলছে, গত ৪ মে থেকে শুরু হওয়া অভিযান জোরদার করা হয় ১৫ মে থেকে। এর মধ্যে র্যাব-পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে ৬১ হাজার ৬৫০ মাদক কারবারি; ২২৮ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে র্যাব।

আর মানবাধিকারবিষয়ক সংগঠন অধিকারের দেওয়া তথ্যমতে, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে গত ১৫ মে থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ২২৮ জন নিহত হয়েছে।

র্যাব-পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, মাদকের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে জেঁকে বসে আছে। চাইলেই অল্প সময়ের মধ্যে থামানো যাবে না। তবে চলমান অভিযানের জেরে মাদকের বিস্তার রোধের উন্নতি হয়েছে।

বিশেষ অভিযানের মধ্যেও মাদকের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার, কুমিল্লা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যশোর, সাতক্ষীরা, ফেনীর মতো জেলাগুলোর সীমান্ত হয়ে এখনো দেশে ঢুকছে মাদক। বিশেষ করে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই ধরা পড়ছে ইয়াবার ছোট-বড় চালান। সামনে জাতীয় নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচনবিষয়ক দায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। সেই সুযোগে মাদক কারবারিরা যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে, সেই দিকটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এ বিষয়ে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান আমাদের সময়কে বলেন, মাদক সমস্যা একদিনের নয়। কাজেই দুই-এক মাসের মধ্যে তা বন্ধও করা যাবে না। তবে অভিযানের কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। মাদক পরিসস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। যে কোনো পরিবেশে মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকবে।

গত ১৪ মে এক সংবাদ সম্মেলনে মাদকের শিকড় উপড়ে ফেলার ঘোষণা দেন র্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। এ সময় তিনি আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের কথা জানান। মূলত র্যাবের ডিজির ঘোষণার পরদিন থেকেই সারাদেশে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে হতাহতের ঘটনা ঘটতে থাকে।