ইয়াবার মামলায় না : জেলা প্রশাসন কর্তৃক সন্মানিত হলেন এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা

বার্তা পরিবেশক::
প্রায় চার দশকের আইন পেশায় থেকেও একজন আইনজীবী ইয়াবা সহ মাদকের কোন মামলায় লড়েননি। পেশা হিসাবে যে মামলায় সবচেয়ে বেশী টাকা রোজগারের পথ রয়েছে-সেটাকেই তিনি পরিহার করেছেন। তিনি কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা। দীর্ঘকালের পেশায় লাখ টাকা ফিঃ’র লোভেও তিনি পা দেননি। এমনসব অপার তিনি বিনয়ের সাথে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

একজন প্রভাব-প্রতিপতিশালী আইনজীবী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তি হয়ে ইয়াবা-মাদকের এমন রমরমা সময়েও টাকার লোভ সংবরণ করতে পারায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন তাঁকে আজ সন্মাননা জানিয়েছেন। সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক ‘নিরব ঘাতক’ বলে পরিচিত ইয়াবা সহ মাদকের কারবারিদের পক্ষে কোনদিন আইনী লড়াই না করেই তিনি বরং মাদক প্রতিরোধে এগিয়ে এসেছেন। বর্তমান সময়ের চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে এরকম গুণী ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এগিয়ে এসেছে প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্টানে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেছেন-‘একজন পেশাজীবী হয়েও ইয়াবার রমরমা বাজার কক্সবাজারে ইয়াবার মামলা পরিচালনা না করার কথাটি ছোট মনে হলেও বাস্তবে তা নয়। বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি অনেক বড়। কেননা ইয়াবার বাজার মানেই কাড়ি কাড়ি টাকা।’ জেলা প্রশাসক বলেন, এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা একজন পেশাজীবী এবং একজন প্রভাবশালী রাজনীতিক হয়েও তিনি নীতি-নৈতিকতাকে বিসর্জন দেননি। এজন্য এরকম একজন ব্যক্তিকে তাঁর গুণের জন্য সন্মাননা জানানো দরকার।

অনুষ্টানে জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন-‘ প্রধানমন্ত্রীর নির্দ্দেশে সারা দেশে চলমান ইয়াবা-মাদকের কঠোর অভিযানের এমন সময়টিতে এরকম উদ্যোগ আইন-শৃংখলা রক্ষাকারি সংস্থার সদস্যদেরকেও উৎসাহিত করবে।’ এতে অন্যান্যের মধ্যে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমদ সিআইপি, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহজাহান, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী সহ অন্যান্যরা।

সন্মাননার জবাবে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন-‘আমি পেশাগত ভাবে টাকার লোভে যেমনি ইয়াবা কারবারিদের পক্ষে আইনগত সহযোগিতা দিইনি তেমনি রাজনৈতিক সুযোগও দিইনি কারবারিদের।’ তিনি বলেন, ইয়াবা কারবারিদের টাকার প্রলোভন এবং চোখ রাঙ্গানিও তাকে কোন প্রভাবান্বিত করতে পারেনি। এমনকি তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসাবে ইউনিয়ন এবং উপজেলা পর্যায়ের নির্বাচনে একজন ইয়াবা কারবারিকে চেয়ারম্যান-মেম্বার করার জন্য সমর্থন দেয়া থেকেও আজ পর্যন্ত বিরত রয়েছেন।

তিনি বলেন, কেবল টাকাই সবকিছু নয়। টাকার বাইরে মনুষ্যত্ব, নির্লোভ, সামাজিকতা দেশপ্রেম এবং ন্যায়নীতিকেই প্রাধান্য দেওয়া দরকার। সেই সাথে জাতির জনকের কন্যা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাদক বিরোধী অবস্থানের কারনে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিজেও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে জানান।

কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের বড় মহেশখালীর বাসিন্দা এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা ১৯৮০ সালে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হয়ে পেশায় যোগ দেন। ১৯৬৫ সালে মহেশখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জি,এস নির্বাচিত হয়ে তিনি ১৯৬৯ সালে মহেশখালী থানা ছাত্রলীগের প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭০ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে র্তণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী কর্মকান্ডে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি।

এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করলে তিনি আওয়ামী পরিবারের নেতা-কর্মীদের নিয়ে স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামে নেমে পড়েন। জাতির জনকের স্বাধীনতার ঘোষণা পুরো মহেশখালী দ্বীপে তিনি টানা তিন দিন ধরে মাইকযোগে প্রচার করেন। এরপরেই পাকিস্তানী পতাকা নামিয়ে পুড়িয়ে ফেলে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক বাহিনী মহেশখালী দ্বীপে এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফার পরিবারের ১৪ টি ঘর পুড়িয়ে দেয়। সেই সাথে পাক বাহিনী তার চাচা শহীদ আবদুস ছাত্তারকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্টালগ্নে তিনি তদানীন্তন মহকুমা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৭ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করেন। ২০১৬ সালে এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

ad