অনুসন্ধানী প্রতিবেদন-১

আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারে পারিবারিক বন্ধন শেষ হতে চলেছে

হুমায়ুন কবির জুশান,উখিয়া নিউজ ডটকম::

কয়েক দিন ধরে আমার স্ত্রীর সাথে আমার কথা বলা বন্ধ। খুব জরুরি প্রয়োজনে বাসায় আমার স্ত্রীর কাছে রাখা মোবাইলে ফোন দিয়েছিলাম। প্রথমে রিং হওয়ার পর কেটে দেয়া হলো। এর পর ফোনই বন্ধ করে দেয়া হলো। পরে অনেকবার চেষ্টা করলাম। কল ঢোকে না। এরপরও অনবরত চেষ্টা করলাম। যখনই কল করি, ফোন বন্ধ। এভাবে সারাদিন কেটে গেল। রাতে বাসায় গিয়ে দেখি বিছানায় পড়ে আছে মোবাইল ফোনটি। দামি সেট। কিন্তু রাগ সামলাতে পারলাম না। মোবাইলটি তুলে সজোরে দেয়ালে ছুড়ে মারলাম। ভেঙ্গে গুঁেড়া গুঁেড়া হয়ে গেল। এরপর চিৎকার করে স্ত্রীর কাছে জানতে চাইলাম সারা দিন ফোন রিসিভ না করা এবং ফোন বন্ধ রাখা হলো কেন। আমার স্ত্রী জানাল মোবাইল তার কাছে ছিল না। সে অন্য কাজে ব্যস্ত ছিল। মোবাইল শিশুদের কাছে ছিল। ফোন কল রিসিভ না করা, মোবাইল বন্ধ রাখা বিষয়ে সে কিছুই জানে না। এ নিয়ে স্ত্রীর সাথে তুমুল ঝগড়া হলো। মনোমালিন্য এবং শেষ পর্যন্ত কয়েক দিন ধরে কথা বলা বন্ধ রয়েছে। বাসায় অশান্তি চলছে। কথাগুলো বললেন উখিয়ায় বসবাসরত শফিকুর রহমান। শফিকুর রহমান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির পাশাপাশি ব্যবসার সাথেও জড়িত। তিনি বলেন, আমার এক সন্তান নবম এবং আরেক সন্তান ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে। দুইজনই মোবাইল, কম্পিউটার,ইন্টারনেট ও ফেসবুকের প্রতি ভয়ানক আসক্তি। তাদের এ আসক্তির কারণে এখন আমি বাসায় থাকলে শিশুদের খুব অসুবিধা হয়। আমি কখন বাসা থেকে বের হবো, সেই অপেক্ষায় থাকে তারা। কারণ আমি বাসায় থাকলে মোবাইল আর কম্পিউটার নিয়ে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে না। আমি নিষেধ করি, রাগারাগি করি। কিন্তু তার পরও শিশুরা সব সময় অপেক্ষায় থাকে কখন ছোঁ মেরে মোবাইল নিয়ে টেপাটেপি শুরু করবে। সারাক্ষণ ফেসবুক ব্যবহার এবং গেম আর গেম। মোবাইল লক রেখেও রক্ষা পাওয়া যায় না। মুহুর্তে তারা লক খুলে ব্যবহার করতে পারে। শফিকুর রহমান আফসোস করে বলেন, একটা সময় ছিল যখন আমি বাসায় থাকলে শিশুরা খুশি হতো। অনেক সময় আবদার করে বলত আব্বু আজ অফিসে যেও না, ছুটি নাও। আর এখন মোবাইল আসক্তির কারণে আমি বাসায় থাকলে তারা বিরক্ত হয়। এ দুঃখ কোথায় রাখি।