‘অরক্ষিত’ রোহিঙ্গা ক্যাম্প

উখিয়া নিউজ ডটকম::
কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের নিয়ে নতুন সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ছলে বলে কৌশলে এমন কি জীবন ঝুঁকি নিয়ে তারা ক্যাম্প ছাড়তে মরিয়া হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে ক্যাম্প অরক্ষিত হওয়ার সুবাধে সহজে বেরিয়ে পড়ছে রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গারা শুধু ক্যাম্প থেকে পালাচ্ছেই না, তারা বাংলাদেশ ছেড়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায়ও পাড়ি জমাচ্ছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো দিনদিন অরক্ষিত হয়ে পড়ছে। কমে যাচ্ছে তদারকি। সুযোগ বুঝে ক্যাম্প থেকে দলবেঁধে পালাচ্ছে। মাঝেমধ্যে ধরাও পড়ছে।
সমুদ্র পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা কালে গত এক মাসে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। পাঁচ শতাধিক ধরা পড়লেও ছলে বলে নানা কৌশলে মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যেতে পারে অসংখ্য রোহিঙ্গা। ক্যাম্প ছেড়ে রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। প্রতিদিন ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গারা পালাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের নির্দিষ্ট সীমানায় ঘেরা দিয়ে রাখতে না পারায় তারা বনজঙ্গলসহ বিভিন্ন চোরাপথ দিয়ে সহজে বের হয়ে যাচ্ছে।

পুলিশ ও কোস্ট গার্ড সমুদ্র পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় শুক্রবার রাতে ৮৪ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে। এদের মধ্যে ৬৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ এবং ১৭ জনকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। কক্সবাজারের টেকনাফ ও পেকুয়া থেকে তাদের আটক করা হয়। এক সপ্তাহ আগে ঢাকা থেকে ২৬ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছিল।
ক্যাম্প থেকে বিভিন্ন উপায়ে বের হয়ে মালয়েশিয়া যেতে উদগ্রীব রোহিঙ্গারা। তারা যাতে ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে অন্য জায়গায় যেতে না পারে সেজন্য উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু তার পরও নানা উপায়ে রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন বলেন, রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা বাহিনীর চেকপোস্ট এড়িয়ে পাহাড়-জঙ্গলের ভেতর দিয়ে এলাকা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গারা এখন স্থানীয় ভাষা শিখে গেছে। পোশাক স্থানীয়দের মতো পরিধান করছে। এ ছাড়া অনেকে স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে বা স্থানীয়দের ভিড়ে কৌশলে পালানোর চেষ্টা করছে।
মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টাকালে বিভিন্ন সময় যেসব রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে তাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী।
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নারীদের নিয়ে কাজ করে বেসরকারি সংস্থা নারী জাগরণ সংস্থা। এই সংস্থার প্রধান নির্বাহী শিউলি শর্মা বলেন, রোহিঙ্গা নারীদের অনেকেই মালয়েশিয়া গিয়ে বিয়ে করার স্বপ্নে বিভোর। তারা মনে করে যে মালয়েশিয়া যেতে পারলে তাদের ভালো বিয়ে হবে। এ ধারণা তাদের ঢুকিয়ে দিয়েছে মানবপাচারকারী সিন্ডিকেট। ফলে তাদের অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র পথে মালয়েশিয়া যেতে আগ্রহী।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে এখন মানব পাচারকারীদের তৎপরতাও বেড়েছে। তা ছাড়া কিছু রোহিঙ্গা আছে যাদের স্বজন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছে। তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত স্বজনদের মালয়েশিয়া নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করে। এ ক্ষেত্রেও মানবপাচারকারীরা সহায়তা করছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন জানান, রোহিঙ্গারা স্বেছায় পাচার হচ্ছে। যারা স্বেচ্ছায় পালিয়ে যেতে চায়, তাদের ধরা কঠিন। আর এর মধ্যে মানবপাচারকারীরা সহযোগিতা করলে আরো কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, সাধারণত চেক পোস্ট বসানো হয়েছে রাস্তায়। রোহিঙ্গারা রাস্তা দিয়ে গিয়ে পাহাড়-জঙ্গল, খাল-বিল দিয়েও পালিয়ে যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া প্রয়োজন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে ঘিরে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হলে সেখান থেকে রোহিঙ্গারা সহজে বের হতে পারবে না।

ad