অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন রোহিঙ্গা তরুণীরা

উখিয়া নিউজ ডেস্ক::
নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানো হচ্ছে রোহিঙ্গা তরুণীদের। ক্যাম্পের মাঝি আর দালাল চক্রের সহায়তায় বিয়ে কিংবা চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীদের ঠেলে দেয়া হচ্ছে অন্ধকার জগতে। বিষয়টিতে উদ্বিগ্ন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন। এটি থামানো না গেলে কক্সবাজারসহ সারাদেশে এইডস-এর ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মিয়ানমারে সহিংসতার পর গত ২৫শে আগস্ট থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। যাদের কারণে উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে মানুষে মানুষে ঠাসাঠাসি এখন। এতো মানুষের ভিড়ে নতুন সংকট, নানা কৌশলে রোহিঙ্গা তরুণীদের ক্যাম্পের বাইরে নিয়ে যাওয়া। অভিযোগ মিলেছে, চাকরির প্রলোভনে কক্সবাজার শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে অনৈতিক কাজে জড়ানো হচ্ছে এসব তরুণীদের। তাতে বেশি শিকার হচ্ছে, অভিভাবকহীন কিশোরী-তরুণী কিংবা বিধবা নারীরা।

রোহিঙ্গারা বলেন, টাকা পয়সা দিয়ে তাদের নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের ক্যাম্প থেকে বেশ কয়েকজনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয় কিছু দালালচক্র, ক্যাম্পের মাঝি ও এনজিও সংস্থার কর্মকর্তারাই এ কাজে জড়িত বলে অভিযোগ জনপ্রতিনিধিদের। তারা বলেন, কিছু কিছু মাঝি দালাল চক্র কিছু রোহিঙ্গা যুবতী মহিলাদেরকে নিয়ে বিভিন্ন হোটেলে বিভিন্ন জায়গায় পাঠাচ্ছে। এগুলো আমাদের নজরে এসেছে। দিনের বেলায় বিভিন্ন এনজিও অফিসাররা তাদের ছোট বোন বলে নিয়ে যাচ্ছে।

বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলছেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদের এ নেতা। তার মতে, এখনই নজর দেয়া না হলে তৈরি করবে নানামুখী সংকট। ঝুঁকি বাড়াবে এইডসের মতো মরণব্যাধির। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহামুদুর হক চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হবে। ৭৩ জন এইডস রোগী ধরা পড়লেও প্রায় ৫ হাজার এইডস আক্রান্ত রয়েছে বলে বলা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এইডস রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি।

তবে প্রশাসনের এ কর্মকর্তা জানালেন, ‘এমন তৎপরতা ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা বলেন, নারী ও শিশু যাতে ক্যাম্প থেকে বের হতে না পারে সে জন্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের এগারোটি চেক পোষ্ট রয়েছে।’

প্রশাসনের দেয়া তথ্য মতে, ক্যাম্পে থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় উদ্ধার করা হয়েছে শতাধিক রোহিঙ্গা তরুণীকে। আর এসব কাজে জড়িত থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়া হয়েছে শতাধিক দালালকে। সুত্র; সময় টিভি